এক ধাক্কায় ৭০% কমবে আয়, ছাঁটাই ১০ লাখ কর্মী! বিমা খাতে রেগুলেটরের নতুন নিয়মে কেন বড়সড় প্রকম্পন?

ভারতের বিমা বিতরণ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে ইন্স্যুরেন্স রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (IRDAI)-র প্রস্তাবিত নীতি নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে গোটা শিল্পমহলে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার নতুন প্রস্তাবনা কার্যকর হলে ব্রোকারেজ ফার্ম বা মধ্যস্থতাকারী সংস্থাগুলির আয় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত তলানিতে ঠেকতে পারে। শুধু তাই নয়, এর প্রভাবে বিমা খাত থেকে অন্তত ১০ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান বা চাকরি হারানোর হাড়হিম করা আশঙ্কা প্রকাশ করল ইন্স্যুরেন্স ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (IBAI)।

কেন এই আশঙ্কা?

গত ২৩ সেপ্টেম্বর আইআরডিএআই-এর তরফে ‘রিক্যালিব্রেটিং ইকোনমিক্স অফ ইন্স্যুরেন্স ডিস্ট্রিবিউশন’ শীর্ষক একটি পরামর্শপত্র প্রকাশ করা হয়। বিমা গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষা, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল পরিকাঠামোর সঠিক ব্যবহার এবং অতিরিক্ত কমিশন সংক্রান্ত খরচ কমাতেই এই পদক্ষেপ বলে জানানো হয়। কিন্তু ৮০০-রও বেশি সদস্য নিয়ে গঠিত আইবিএআই-এর দাবি, নীতি সংস্কারের উদ্দেশ্য ভালো হলেও বর্তমান খসড়া বাস্তবায়িত হলে সার্বিক বিমা শিল্পের প্রসারে বড় ধাক্কা লাগবে। বিশেষ করে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নির্ভর এই ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীদের কমিশন ও আয় ব্যাপক হারে হ্রাস পেলে হাজার হাজার সংস্থা বন্ধের মুখে পড়বে।

সময়সীমা বাড়ানোর দাবি ও আইআরডিএ-র অবস্থান

মঙ্গলাবার আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে আইবিএআই-এর পরিচালক পবনজিৎ সিং ধিংরা জানান, প্রস্তাবনার ওপর মতামত ও পরামর্শ জমা দেওয়ার সময়সীমা অত্যন্ত সংক্ষিপ। বিমা সংস্থা ও কর্মীদের স্বার্থ রক্ষায় এই সময়সীমা আরও দুই মাস বাড়িয়ে অন্তত ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা উচিত।

অন্য দিকে, পরামর্শপত্র প্রকাশের পর নীতিগত পরিবর্তন সমর্থন করে অতিরিক্ত কমিশন আদায়ের বিষয়টি তুলে ধরেছেন আইআরডিএ প্রধান অজয় শেঠ। তবে উদ্ভূত জটিলতা ও নিজেদের একাধিক দাবি নিয়ে আগামী শুক্রবার আইআরডিএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে বসতে চলেছেন আইবিএআই-এর প্রতিনিধিরা।