‘বিদেশি শক্তির দয়ায় ক্ষমতায় মোদি!’ রাহুলের বিস্ফোরক মন্তব্যে তুলকালাম জাতীয় রাজনীতি!

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘বিদেশি সহায়তার’ কারণে ক্ষমতায় এসেছেন এবং এখনও ক্ষমতায় টিঁকে আছেন—কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর এই অত্যন্ত বিস্ফোরক অভিযোগের পরই উত্তাল হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতি। রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্যের তীব্র জবাব দিয়ে তাঁকে একহাত নিয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টির জাতীয় মুখপাত্র সি আর কেশবন। পদ্ম শিবিরের পক্ষ থেকে কংগ্রেস নেতাকে ‘ভণ্ড প্রতারক’ বলে আক্রমণ করে দাবি করা হয়েছে যে, রাহুল গান্ধী নিজেই বিভিন্ন সময়ে বিদেশ সফরে গিয়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন।
এক্স হ্যান্ডেলে রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিজেপি মুখপাত্র কেশবন বলেন, “রাহুল গান্ধী এমন একজন ভণ্ড প্রতারক যে, তাঁর নিম্নমানের মিথ্যাগুলো সবসময় উল্টে তাঁর ওপরই এসে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে অপমানিত হতে হয়।” কেশবন স্মরণ করিয়ে দেন ২০২৩ সালের মার্চ মাসের ব্রিটেন সফরের কথা, যেখানে রাহুল গান্ধী ব্রিটিশ সংসদ ও থিঙ্ক-ট্যাঙ্কের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারতে গণতন্ত্রের অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন এবং প্রকারান্তরে পশ্চিমা দেশগুলির হস্তক্ষেপ দাবি করেছিলেন। সেই সফরের একটি পুরনো ভিডিও প্রকাশ করে বিজেপি অভিযোগ করেছে যে, রাহুল গান্ধী নিজেই প্রশ্ন তুলেছিলেন কেন আমেরিকা বা ইউরোপীয় দেশগুলি ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে না।
এর পাশাপাশি, কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে বিতর্কিত বিলিয়নেয়ার জর্জ সোরোসের ফাউন্ডেশনের যোগসূত্র নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি মুখপাত্র। কেশবনের দাবি, ‘ফোরাম অফ ডেমোক্র্যাটিক লিডার্স ইন দ্য এশিয়া-প্যাসিফিক’ নামক যে আন্তর্জাতিক সংগঠনের সঙ্গে সোনিয়া গান্ধীর নাম জড়িয়ে রয়েছে, তা জম্মু ও কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদী ধারণাকে সমর্থন করেছিল এবং এর পেছনে জর্জ সোরোসের অর্থসাহায্য রয়েছে। মার্কিন শর্ট-সেলার ‘হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ’-এর প্রতিবেদন এবং জার্মান শিক্ষাবিদ কর্নেলিয়া ওলের সঙ্গে সোনিয়া গান্ধীর সাক্ষাতের প্রসঙ্গ টেনেও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রহস্যজনক নীরবতার অভিযোগ এনেছেন তিনি। একই সঙ্গে, রাহুল গান্ধীর ঘনঘন এবং গোপন বিদেশ সফর নিয়েও তীব্র সমালোচনা করে বিজেপি দাবি করেছে যে, দেশের বিরোধী দলনেতার এই গোপন বৈঠকগুলির আসল উদ্দেশ্য কী, তা দেশবাসীর জানা উচিত।
উল্লেখ্য, ‘রাষ্ট্রীয় একতা দিবস’-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের বিরুদ্ধে বিদেশি ষড়যন্ত্র এবং কিছু শক্তি কর্তৃক সোশ্যাল মিডিয়াকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টার বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সতর্ক করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রাহুল গান্ধী ‘এক্স’ প্ল্যাটফর্মে একটি প্রতিবেদন শেয়ার করে দাবি করেন যে, মোদি সরকার বিদেশি সহায়তার ওপর ভিত্তি করেই টিঁকে রয়েছে। এর পরেই প্রধানমন্ত্রীকে যেকোনো মঞ্চে এবং যেকোনো সময়ে একটি প্রকাশ্য বিতর্কের মুখোমুখি হওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন কংগ্রেস সাংসদ। রাহুলের এই চ্যালেঞ্জের পরই রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে উঠেছে এবং দুই শিবিরের বাকযুদ্ধ চরমে পৌঁছেছে।