এআই চ্যাটবটকে মনের কথা বলছেন? সাবধান! ফাঁস হয়ে যেতে পারে ব্যাংক ডিটেইলস ও গোপন তথ্য

বর্তমান ব্যস্ত জীবনের জটিল সমীকরণে আমাদের বড় ভরসা হয়ে উঠেছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই (AI)। পড়ালেখা, অফিসের চিঠি লেখা, কোডিং শেখা থেকে শুরু করে অসুখের লক্ষণ বিচার করা—সব কিছুতেই এখন সাধারণ মানুষের সহায় হয়ে উঠেছে ChatGPT, Gemini কিংবা Claude-এর মতো জনপ্রিয় চ্যাটবটগুলি। কেবল ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবেই নয়, অনেকে আবার এসব এআই টুলের সাথে বন্ধুর মতো মন খুলে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের কথা বা গোপন নথিও শেয়ার করে ফেলছেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, যে এআই-কে মনের কথা বা প্রয়োজনীয় ডেটা দিচ্ছেন, সেটি আপনার প্রাইভেসির জন্য কতটা বিপজ্জনক হতে পারে?

৩টি প্রধান পয়েন্ট

  • সার্ভারে ডেটা প্রসেসিং: এআই চ্যাটবটে আপনার দেওয়া সমস্ত বার্তা বা আপলোড করা ফাইল নির্দিষ্ট কোম্পানির সার্ভারে প্রক্রিয়াজাত করা হয়।

  • কোম্পানির পলিসির ওপর নির্ভরতা: আপনার শেয়ার করা ডেটা কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তা পুরোপুরি নির্ভর করে কোম্পানির গোপনীয়তা নীতি (Privacy Policy) ও অ্যাকাউন্টের সেটিংসের উপর।

  • যেসব তথ্য ভুলেও দেবেন না: এআই চ্যাটবটের কাছে কখনই আপনার পাসওয়ার্ড, ব্যাংকের গোপন বিবরণ, ইউপিআই পিন, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা আধার আইডি প্রকাশ করবেন না।

আপনার গোপন কথা কি তবে পাবলিক হচ্ছে?

আমেরিকার নামী স্ট্যানফোর্ড ইনস্টিটিউট ফর হিউম্যান-সেন্টার্ড এআই (Stanford HAI)-এর এক সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রায় ছয়টি শীর্ষস্থানীয় এআই তৈরি করা কোম্পানির প্রাইভেসি পলিসি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কোম্পানিগুলির অ্যাকাউন্টে বাই-ডিফল্ট (By-default) এমন একটি সেটিংস চালু থাকে, যার মাধ্যমে সাধারণ ব্যবহারকারীদের চ্যাট হিস্ট্রি এবং ডেটা দিয়ে তাদের এআই মডেলকে প্রশিক্ষণ ও উন্নত করা হয়। অর্থাৎ, আপনার চ্যাটে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তাদের সিস্টেমে থেকে যেতে পারে।

কীভাবে এআই সিস্টেমে বিপদ ডেকে আনছেন?

যখনই আপনি চ্যাটবটে কোনো প্রশ্ন লিখছেন বা ফাইল আপলোড করছেন, সেই তথ্য সরাসরি কোম্পানির প্রসেসিং সার্ভারে চলে যায়। যদি আপনি আপনার প্রাইভেসি সেটিংস পরিবর্তন না করেন, তবে সেই ডেটা অন্যান্য ডেটা অ্যানালিস্ট বা সিকিউরিটি টিম পরীক্ষা করতে পারে। অসাবধানতাবশত যদি কোনো গ্রাহক নিজের ব্যাংক বিবরণ, মেডিকেল রিপোর্ট বা অফিশিয়াল সিক্রেট ফাইল আপলোড করেন, তবে তা পরবর্তীতে ডেটা ব্রিচ বা অনলাইন ফাঁসের চরম ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে

১. সচেতনতা বাড়িয়ে ব্যবহার: চ্যাটবটের কাছে ব্যক্তিগত আইডেন্টিটি কার্ড, কার্ড নম্বর, ওটিপি (OTP) বা পাসওয়ার্ড দেবেন না।

২. প্রাইভেসি সেটিংস পরিবর্তন: ChatGPT বা Gemini ব্যবহার করার সময়ে সেটিংসে গিয়ে ‘Data Controls’ বা ‘Model Training Options’ বন্ধ (Opt-out) করে রাখুন।

৩. অফিসিয়াল ডেটা সুরক্ষা: অফিসের অতি-সংবেদনশীল কপিরাইটযুক্ত নথি বা ব্যক্তিগত ব্যাংকিং ডকুমেন্টস এআই টুলে আপলোড করা থেকে বিরত থাকুন।

এআই আপনার দৈনন্দিন কাজকে সহজ করলেও, নিজস্ব নিরাপত্তা নিজের হাতেই রাখতে পরামর্শ দিচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা।