ক্যালেন্ডারের পাতা বলছে দরজায় কড়া নাড়ছে বড়দিন আর ইংরেজি নববর্ষ। আর উৎসবের এই ছুটিতে সমুদ্রের টানে কয়েক লক্ষ পর্যটকের ঢল নামতে চলেছে সৈকত শহর দিঘায়। পর্যটকদের এই বিপুল ভিড় সামলাতে এবং তাঁদের সফরকে আনন্দদায়ক ও নিরাপদ করতে কোমর বেঁধে নামল জেলা প্রশাসন। হোটেল মালিক ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক।
নিরাপত্তা ও নজরদারিতে বিশেষ জোর: উত্সবের দিনগুলিতে দিঘার সমুদ্র সৈকতে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য নেওয়া হয়েছে কড়া ব্যবস্থা:
-
বাড়তি পুলিশ বাহিনী: সৈকতজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন থাকবে।
-
নুলিয়াদের সতর্কতা: সমুদ্রে স্নানের সময় পর্যটকদের বিপদমুক্ত রাখতে সর্বদা সজাগ থাকবেন নুলিয়ারা।
-
মদ্যপান ও বিশৃঙ্খলা: মদ্যপ অবস্থায় অসভ্যতা বা বিশৃঙ্খলা রুখতে পুলিশ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবে।
হোটেল ভাড়া ও খাবারের মান: অনেক সময় উৎসবের মরসুমে পর্যটকদের থেকে চড়া হোটেল ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এবার তা রুখতে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:
-
ভাড়ার তালিকা বাধ্যতামূলক: প্রতিটি হোটেলে ভাড়ার চার্ট টাঙানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কেউ অতিরিক্ত টাকা দাবি করলে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো যাবে।
-
খাবারের মান যাচাই: পর্যটকদের স্বাস্থ্য রক্ষায় রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানে নিয়মিত অভিযান চালাবে প্রশাসন।
শহর সাজানো ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ: দিঘাকে আরও ঝকঝকে করতে শহরজুড়ে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে পর্যটকবাহী বাস ও ছোট গাড়ির জন্য নির্দিষ্ট পার্কিং জোন চিহ্নিত করেছে ট্রাফিক পুলিশ।
জেলাশাসকের বার্তা: জেলাশাসক জানান, পর্যটকরা যাতে হাসিমুখে বাড়ি ফিরতে পারেন, সেটাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। তবে পর্যটকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। সমুদ্রে স্নানের সময় প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনে চলা এবং সৈকত পরিষ্কার রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।