উপরাষ্ট্রপতি ধনকড়ের আকস্মিক পদত্যাগ, পরবর্তী কে? অঙ্ক কষছে বিজেপি

উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়ের আচমকা ইস্তফা দিল্লির রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। তার পদত্যাগের কারণ এবং পরবর্তী উপরাষ্ট্রপতি কে হবেন – এই দুটি প্রশ্নই এখন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সূত্রের খবর, বিজেপি ইতিমধ্যে পরবর্তী উপরাষ্ট্রপতি নিয়ে নিজেদের কৌশল সাজাতে শুরু করেছে।

প্রাথমিকভাবে জল্পনা ছিল যে, এনডিএ-র কোনো বর্ষীয়ান শরিক নেতা এই গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব পেতে পারেন। কিন্তু গেরুয়া শিবিরের অন্দরমহল থেকে ইঙ্গিত মিলছে ভিন্ন। জানা গেছে, কোনো শরিক নেতা নন, বরং বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্য থেকেই কেউ এই পদে আসছেন। উপরাষ্ট্রপতির মতো দায়িত্বপূর্ণ পদে এমন কাউকে বসানো হবে, যিনি সরাসরি বিজেপির মূল ভাবধারার সঙ্গে যুক্ত এবং দলের কাছে অত্যন্ত আস্থাভাজন ও ঘনিষ্ঠ।

এর আগে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রাজ্যসভার বর্তমান ডেপুটি স্পিকার হরিবংশ নারায়ণ সিংয়ের নাম উঠে এসেছিল। বিহারের আসন্ন নির্বাচনকে মাথায় রেখে রাজনৈতিক মহলের একাংশ নীতীশ কুমার অথবা বর্ষীয়ান জেডিইউ নেতা রাম নাথ ঠাকুরকেও এই পদের যোগ্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছিল। তবে বিজেপির অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের মতো অত্যন্ত ক্ষমতাশালী এবং গুরুত্বপূর্ণ পদ শরিকদের হাতে ছাড়তে নারাজ দল। সংসদীয় রাজনীতিতে এই পদের গুরুত্ব অপরিসীম, তাই বিজেপি এই নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখতে চাইছে।

এদিকে, উপরাষ্ট্রপতি পদ সংবিধান অনুযায়ী খালি রাখা যায় না। তাই দ্রুত নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা জরুরি। এই লক্ষ্যে বুধবারই নির্বাচন কমিশন একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে যে, উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং শীঘ্রই এর দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ভোটে অংশ নেওয়া সাংসদদের নিয়ে একটি ‘ইলেক্টোরাল কলেজ’ গঠন করা হচ্ছে। এই ভোটার তালিকায় লোকসভা ও রাজ্যসভার নির্বাচিত ও মনোনীত সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এখনও পর্যন্ত রিটার্নিং অফিসার এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসার নির্ধারিত না হলেও, সেই বিষয়ে কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। একইসঙ্গে, কমিশন অতীতের ভোটপ্রক্রিয়ার রেফারেন্স খতিয়ে দেখছে।

জগদীপ ধনকড়ের পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টা আগে দুজন মন্ত্রীর সঙ্গে তার কথা হয়েছিল বলে খবর। এই কথোপকথনে মোদীর ‘অসন্তোষের’ বিষয়টি উঠে এসেছিল বলে সূত্র মারফত জানা গেছে, যদিও এর কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ নেই।

সব মিলিয়ে, উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে দিল্লির রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ তৈরি হয়েছে। এবার দেখার পালা, বিজেপি কাকে বেছে নেয় এই গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য এবং এই নির্বাচন দিল্লির ক্ষমতার সমীকরণে কী নতুন মাত্রা যোগ করে।