“উপদেশ দেওয়া সহজ, মানা কঠিন!” উৎসবের রাশ টানতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা নিয়ে তুলকালাম নেটদুনিয়া!

সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক মন্তব্য ও নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের ঝড় উঠেছে। আদালতের পক্ষ থেকে দীপাবলির মতো প্রাচীন উৎসবকে বাণিজ্যিকীকরণের ঊর্ধ্বে রাখার এবং পটকা ফোটানোর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এই নির্দেশ প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। প্রশ্ন উঠেছে, যাঁরা নিজেরা প্রিমিয়াম গাড়ি, কড়া পুলিশি নিরাপত্তা এবং সরকারি বিলাসবহুল বাংলোর সুবিধা ভোগ করেন, তাঁরা কীভাবে সাধারণ মানুষের উৎসবের আনন্দকে নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার রাখেন? সারা বছর কঠোর পরিশ্রমের পর এই কটি দিনের আনন্দের জন্য অপেক্ষা করে থাকা আমজনতা আদালতের এই বিধি-নিষেধকে এক প্রকার অধিকার খর্ব করার সামিল বলেই মনে করছেন।
দীপাবলি নিছক কোনো সাধারণ অনুষ্ঠান নয়; এটি আলোর উৎসব, পারিবারিক মিলনমেলা এবং কোটি কোটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। বহু মানুষ মনে করছেন, আদালতের নির্দেশিকায় পটকা ফোটানোর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া এবং গ্রিন ক্র্যাকারের শর্ত চাপানোর ফলে উৎসবের মূল প্রাণস্পন্দনই ম্লান হয়ে যাচ্ছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, দিল্লি-এনসিআর বা দেশের অন্যান্য মেট্রো শহরের আসল পরিবেশ দূষণের কারণ কি কেবল দীপাবলির কয়েকদিনের বাজি? সারা বছর ধরে চলা বেপরোয়া নির্মাণকাজ, লক্ষ লক্ষ যানবাহনের বিষাক্ত ধোঁয়া এবং শিল্পাঞ্চলের দূষণ নিয়ন্ত্রণের নামে নামমাত্র পদক্ষেপ করা হয়, অথচ উৎসবের সময় সাধারণ মানুষের আবেগ ও আনন্দের ওপর আঘাত হানা খুব সহজ।
সমালোচকরা আরও দাবি করছেন যে, বিচারব্যবস্থার উচ্চপদে থাকা ব্যক্তিরা সম্পূর্ণ আলাদা ও সুরক্ষিত জীবনযাপন করেন। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রাম এবং উৎসবের আবেগের সঙ্গে সেই বিলাসবহুল জীবনযাত্রার কোনো মিল নেই। তাই সুবিধাভোগী অবস্থান থেকে সাধারণ মানুষকে সংযত হওয়ার উপদেশ দেওয়া অনেকের কাছেই দ্বিচারিতা বলে ঠেকছে। পরিবেশ রক্ষা এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ অবশ্যই দেশের স্বার্থে জরুরি, কিন্তু তার জন্য একপেশেভাবে সাধারণ মানুষের আনন্দকে বলি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আসল সমস্যার সমাধানে শিল্প ও পরিবহণ খাতের দূষণ রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, উৎসবের আনন্দ কেড়ে নেওয়া নয়।