উধাও লাখ লাখ ভুয়ো উপভোক্তা! স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে এবার হাজার হাজার কোটি টাকার মহা-দুর্নীতি?

পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম ফ্ল্যাগশিপ স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প ‘স্বাস্থ্যসাথী’ ঘিরে ফের মাথাচাড়া দিল বিশাল দুর্নীতির অভিযোগ। আয়ুষ্মান ভারত ও মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার সুবিধা দিতে গিয়ে রাজ্যজুড়ে বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা চালানোর সময় সামনে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সরকারি নথি অনুযায়ী স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের অস্তিত্ব থাকলেও, বাস্তবে সেই কার্ডধারীদের কোনো অস্তিত্বই পাওয়া যাচ্ছে না। প্রাথমিক অনুমানে ৩০ থেকে ৪০ লাখ ভুয়ো উপভোক্তার নাম কার্ডে যুক্ত থাকার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যার মাধ্যমে সরকারি কোষাগার থেকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের এই বেহাল দশা ও অসঙ্গতি নিয়ে ইতোমধ্যেই ভারতের মহাহিসাব নিরীক্ষক (ক্যাগ)-এর পারফরম্যান্স অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স অডিট রিপোর্টে (রিপোর্ট নম্বর ৫/২০২৫) বিস্ফোরক সব পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে। ২০১৮-১৯ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবর্ষের ওপর করা এই অডিটে দেখা গিয়েছে, প্রকল্প পরিচালনা থেকে শুরু করে হাসপাতাল গ্রেডিং ও রোগী যাচাইকরণ—সবক্ষেত্রেই চরম গাফিলতি ছিল। ক্যাগ জানিয়েছে, রেশন কার্ডধারী পরিবারের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি পরিবারকে স্বাস্থ্যসাথীতে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। আধার সংযুক্তিকরণের ব্যর্থতার কারণে একই ব্যক্তি একাধিকবার কার্ড করানোর সুযোগ পেয়েছেন।
শুধু উপভোক্তা যাচাই নয়, বেসরকারী হাসপাতালগুলির গ্রেডিংয়েও ছিল বড় অনিয়ম। পর্যাপ্ত পরিকাঠামো না থাকা সত্ত্বেও ৩১টি বেসরকারী হাসপাতালকে উচ্চতর গ্রেড দিয়ে প্রায় ১৪.৪৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কোনো পোস্ট ডিসচার্জ মেডিক্যাল অডিট করা হয়নি এবং অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাও ছিল অত্যন্ত শিথিল। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী নেতৃত্ব কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছেন, অন্যদিকে প্রশাসনিক অস্বস্তি দিন দিন বাড়ছে।