বিদায় ক্যাপ্টেন! ৮৬ বছর বয়সে চিরতরে থামল ‘স্টার ট্রেক’ কিংবদন্তি স্যার প্যাট্রিক স্টুয়ার্টের পথচলা

হলিউড এবং বিশ্ব বিনোদন জগতের জন্য এক অপূরণীয় ও মর্মান্তিক শোকের সংবাদ। ‘স্টার ট্রেক’ খ্যাত বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ অভিনেতা এবং কোটি কোটি মানুষের হৃদস্পন্দন স্যার প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট ৮৬ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। তার নিজস্ব অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে প্রকাশিত পারিবারিক বিবৃতির মাধ্যমে এই দুঃখজনক সংবাদটি নিশ্চিত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আলঝেইমার্স রোগ এবং লিউই বডি ডিমেনশিয়ায় মারাত্মকভাবে আক্রান্ত থাকার পর, গত ২৮শে অক্টোবর লস অ্যাঞ্জেলেসের নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি। তার এই আকস্মিক প্রয়াণে গোটা বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

১৯৪০ সালে যুক্তরাজ্যের ইয়র্কশায়ারে জন্মগ্রহণ করা স্যার প্যাট্রিক ছিলেন অভিনয়ের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি রয়্যাল শেক্সপিয়ার কোম্পানিতে যোগ দিয়ে ধ্রুপদী নাট্যমঞ্চে নিজের অসাধারণ দক্ষতার প্রমাণ দেন। পরবর্তীতে টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্রে নিজের সুদীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি অভিনয় ও নাট্যমঞ্চের মধ্যে নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রেখেছিলেন। জনপ্রিয় সাই-ফাই সিরিজ ‘স্টার ট্রেক’-এর পরবর্তী সংস্করণে ১৯৮৭ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যে ১৭০টিরও বেশি পর্বে অবিস্মরণীয় ‘ক্যাপ্টেন জঁ-লুক পিকার্ড’ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করেন। পরবর্তীতে ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ‘স্টার ট্রেক: পিকার্ড’ সিরিজেও এই চরিত্রটিতে ফিরে এসে তিনি নতুন প্রজন্মের দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলেন। এছাড়া মার্ভেল স্টুডিওর জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘এক্স-মেন’-এ প্রফেসর এক্স, ‘লোগান’ এবং ‘অ্যাভেঞ্জার্স’ চলচ্চিত্রে তার অনবদ্য অভিনয় তাকে বিশ্বজুড়ে অমর করে রেখেছে। ২০১০ সালে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ তাকে সম্মানজনক ‘নাইট’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

তার এই চিরবিদায়ে বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্র ও নাট্যমঞ্চের সহকর্মীরা গভীর শোক ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন। ঘনিষ্ট বন্ধু ও সহ-অভিনেতা স্যার ইয়ান ম্যাককেলান তাকে “প্রজন্মের সবচেয়ে সম্মানিত ও প্রিয় অভিনেতা” বলে অভিহিত করেছেন। মার্ভেল স্টুডিওস তাকে এক “অনন্য প্রতিভা ও উদার সহযোগী” হিসেবে স্মরণ করেছে। সহ-অভিনেতা উইলিয়াম শ্যাটনার সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন যে, ক্যাপ্টেন পিকার্ডের চরিত্রে তার অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি গভীর মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন। হিউ জ্যাকম্যান তাকে “অসাধারণ বন্ধু ও মানুষ” হিসেবে স্মরণ করেছেন। এদিকে, যুক্তরাজ্যের আলঝেইমার্স সোসাইটির প্রধান নির্বাহী মিশেল ডাইসন এই মর্মান্তিক প্রয়াণে ডিমেনশিয়ার ভয়াবহতার কথা স্মরণ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। হলিউড বুলেভার্ডের ওয়াক অফ ফেমে ফুল দিয়ে ভক্তরা তাদের প্রিয় তারকাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। মঞ্চ ও পর্দার এই মহীরুহের চলে যাওয়ায় বিনোদন জগত এক অভিভাবকহীন শূন্যতার মুখোমুখি হলো।