উত্তরবঙ্গ দখলে মরিয়া বিজেপি! শিলিগুড়িতে রাত কাটাবেন মোদী, জোড়া প্রচারে কি উল্টে যাবে সমীকরণ?

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজতেই বঙ্গে হাইভোল্টেজ প্রচারে নামছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগামী ১১ এবং ১২ এপ্রিল দু’দিনের ঝটিকা সফরে রাজ্যে আসছেন তিনি। উত্তর থেকে দক্ষিণ— মোদীর এই ‘ডাবল ডোজ’ প্রচার ঘিরে ইতিমধ্যেই তুঙ্গে উঠেছে গেরুয়া শিবিরের তৎপরতা।
এক দিনেই তিন জনসভা: দলীয় সূত্রের খবর, আগামী ১১ এপ্রিল উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের সেতুবন্ধনে নামছেন প্রধানমন্ত্রী। ওই দিন কাটোয়া, জঙ্গিপুর এবং বালুরঘাটে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জনসভা করবেন তিনি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই তিনটি এলাকাই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যেখানে ঘাসফুল শিবিরের জমি শক্ত করতে মরিয়া বিজেপি। জনসভা শেষে ১১ তারিখ রাতেই প্রধানমন্ত্রী পৌঁছে যাবেন শিলিগুড়িতে।
১২ এপ্রিল শিলিগুড়িতে মেগা রোড শো: সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ১২ এপ্রিল শিলিগুড়ির রাজপথে নামতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুতি শুরু হলেও, ওই দিন একটি বিশাল রোড শো হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের তরাই-ডুয়ার্স এলাকায় নিজেদের সংগঠন আরও মজবুত করতেই প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ সফর বলে মনে করা হচ্ছে।
বিজেপির প্রতিষ্ঠা দিবসে মোদীর বার্তা: সোমবার বিজেপির প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে ভার্চুয়াল মাধ্যমে রাজ্যের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মহিলা, যুবক এবং প্রথমবার ভোট দেবেন এমন ভোটারদের ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মোদী বলেন:
“মানুষের দুয়ারে গিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির কথা বলুন। বিশেষ করে মহিলা সংরক্ষণ আইনের গুরুত্ব সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিন।”
প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে দেশের মহিলারা এই ঐতিহাসিক আইনের সুবিধা পেতে শুরু করবেন।
তৃণমূলের পালটা কটাক্ষ: মোদীর এই সফর এবং প্রতিশ্রুতি নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, নির্বাচনের আগে বিজেপি কেবল ‘জুুমলা’ বা ফাঁপা প্রতিশ্রুতি দেয়, যার সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই। কোচবিহার বা উত্তরবঙ্গের মানুষ এবার আর বিজেপির কথায় ভুলবেন না।
সব মিলিয়ে, এপ্রিলের মাঝামাঝিতে প্রধানমন্ত্রীর এই জোড়া সফর বঙ্গের নির্বাচনী উত্তাপকে যে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।