উত্তরবঙ্গে থামছে না দুর্যোগ, আরও ভূমিধসের আশঙ্কা! দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহারে চরম বিপদ, ৭২ ঘণ্টায় কী হবে? জেনে নিন।

স্বস্তির খবর নেই! উত্তরবঙ্গের গোদের ওপর বিষফোড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে ভুটান পাহাড়ের প্রবল বৃষ্টি। সেই জল নেমে এসে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে তিস্তা, তোর্সা, রায়ডাক ও সংকোশের মতো নদীগুলিতে। এর ফলেই উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সৃষ্টি হয়েছে চরম দুর্যোগ, মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ২৪ জনে। নিখোঁজ বহু মানুষ।

দুর্যোগের আরও বাড়ার আশঙ্কা!
প্রকৃতির এই তাণ্ডব থেকে এখনই রেহাই নেই বলে জানাচ্ছে আবহাওয়া দফতর। আলিপুরদুয়ার সহ উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে আগামী দু’দিন ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত আরও বাড়বে। বিশেষত, দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারের মতো উত্তর দিকের জেলাগুলিতে বৃষ্টির পরিমাণ যত উত্তরের দিকে যাওয়া যাবে, ততই বাড়বে।

আবহাওয়া দফতর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, এই প্রবল বৃষ্টির জেরে আরও ভূমিধস নামতে পারে। সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে চলেছে। মঙ্গলবারও উত্তরবঙ্গের সমস্ত জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

তছনছ উত্তরবঙ্গ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টিতে উত্তরবঙ্গের প্রায় সব জেলাই তছনছ। ভুটান পাহাড়ের অতিরিক্ত জল নামায় ফুলেফেঁপে উঠেছে পাহাড়ি নদীগুলো।

দুধিয়া সেতু ভেঙে যাওয়ায় শিলিগুড়ি ও মিরিকের মধ্যে কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

বাংলা-সিকিম রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

কালিম্পং থেকে দার্জিলিং যাওয়ার রাজ্য সড়কও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ।

শোকপ্রকাশ ও মুখ্যমন্ত্রীর সফর
প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ে বিপুল প্রাণহানির ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীও সোশ্যাল মিডিয়ায় বাংলায় পোস্ট করে সমবেদনা জানিয়েছেন।

এই ভয়াবহ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আজ, সোমবারই উত্তরবঙ্গে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি প্রশাসনের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করবেন বলে GTA সূত্রে খবর।