উত্তরপ্রদেশে ‘ডিটেক্ট, ডিটেন, ডিপোর্ট’ নীতি! বেআইনি অনুপ্রবেশ রুখতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ যোগী আদিত্যনাথের, প্রতিটি জেলায় ডিটেনশন সেন্টার তৈরির নির্দেশ!

উত্তরপ্রদেশ জুড়ে বেআইনি অনুপ্রবেশ রুখতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিল মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার। রাজ্যের কোথাও কোনও অনুপ্রবেশকারী বা বেআইনিভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিক ধরা পড়লেই তাঁকে আটক করে ডিটেনশন সেন্টারে (Detention Centre) পাঠানোর স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই উদ্দেশ্যে প্রতিটি জেলাশাসককে নিজ নিজ এলাকায় দ্রুত অস্থায়ী ডিটেনশন সেন্টার গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে উত্তরপ্রদেশে এসআইআর (SIR)-এর কাজ চলছে, আর তার মধ্যেই অনুপ্রবেশ রুখতে যোগী সরকারের এই কঠোর অবস্থান জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।

🏛️ ‘ডিটেক্ট, ডিটেন, ডিপোর্ট’ নীতির দিকে যোগী সরকার
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বক্তব্য অনুযায়ী, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা রাজ্য সরকারের প্রথম দায়িত্ব। কোনও প্রকার বেআইনি কার্যকলাপ, বিশেষত অনুপ্রবেশ, কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

রাজ্য সরকারের তরফে প্রকাশিত নির্দেশিকার মূল বিষয়গুলি হলো:

শনাক্তকরণ: প্রতিটি জেলার প্রশাসনকে তাদের এলাকায় বসবাসকারী বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করতে হবে।

ডিটেনশন সেন্টার: আটক অনুপ্রবেশকারীদের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাখার জন্য প্রতিটি জেলায় অস্থায়ী ডিটেনশন সেন্টার তৈরি করতে হবে।

নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা: সেন্টারগুলোর নির্মাণ, নিরাপত্তা এবং ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দ্রুত নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নো রিলিজ: মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ স্পষ্ট— ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ হওয়ার আগে কোনও অবস্থাতেই আটক ব্যক্তিদের সেন্টার থেকে ছাড়া যাবে না।

📜 ভেরিফিকেশন ও বহিষ্কার প্রক্রিয়া
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, অনুপ্রবেশকারীদের ডিটেনশন সেন্টারে রাখার পর তাদের নথিপত্র, পরিচয় এবং দেশের উৎস যাচাই করা হবে। ভেরিফিকেশনের পর আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তাঁদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও পূর্বে অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে বহিষ্কারের প্রস্তাব দিয়ে “ডিটেক্ট, ডিটেন, ডিপোর্ট” (Detect, Detain, Deport) নীতির উপর জোর দিয়েছিলেন। এবার সেই নীতি কার্যকর করার দিকেই এগোল উত্তরপ্রদেশ সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পরই বিভিন্ন জেলার জেলাশাসকরা অনুপ্রবেশ রুখতে নজরদারি আরও জোরদার করেছেন।