উত্তরপ্রদেশে গেরুয়া শিবিরের চরম বিপদ! জেন জি নয়, মোদী-যোগীর ঘুম কেড়ে নিচ্ছে ‘জেন এক্স’?

উত্তরপ্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত দ্রুত এগিয়ে আসছে, ততই ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) সামনে রাজনৈতিক সমীকরণ অত্যন্ত কঠিন ও জটিল হয়ে উঠছে। সম্প্রতি ‘ইন্ডিয়া টুডে’-র একটি সমীক্ষার ফলাফল গেরুয়া শিবিরের অভ্যন্তরীণ উদ্বেগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের বড় একটি অংশের মতে, এবারের নির্বাচনে বিজেপির জন্য সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ বা মাথাব্যথার কারণ হয়তো আজকের তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেন জি’ নয়, বরং তাদের বাবা-মা অর্থাৎ ‘জেন এক্স’ প্রজন্ম। সমীক্ষার পরিসংখ্যান এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের এই চাঞ্চল্যকর মূল্যায়ন এখন গোটা দেশের রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

আগস্ট মাসের ওই সমীক্ষায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে, যদি এই মুহূর্তে লোকসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে উত্তরপ্রদেশের মোট ৮০টি আসনের মধ্যে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট ৪১টি এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ মাত্র ৩৮টি আসন পেতে পারে। অথচ এর আগে জানুয়ারি মাসের সমীক্ষায় যেখানে এনডিএ-কে ৪৮টি এবং ইন্ডিয়া জোটকে ৩১টি আসনের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছিল, বর্তমান এই বড় ধরনের পরিবর্তন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই সমীক্ষা মূলত লোকসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে করা হয়েছে এবং এর ফলাফল সরাসরি ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত পূর্বাভাস নয়, তবুও উত্তরপ্রদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশে বিজেপির জন্য কিছু বড় উদ্বেগের মেঘ যে ঘনিয়ে এসেছে, তা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।

বিখ্যাত রাজনৈতিক বিশ্লেষক যশবন্ত দেশমুখের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বেকারত্ব বা চাকরির পরীক্ষার মতো ইস্যু নিয়ে ‘জেন জি’-র ক্ষোভের পাশাপাশি বিজেপির জন্য আরও বড় চিন্তার কারণ হয়ে উঠতে পারে ‘জেন এক্স’ প্রজন্ম। মূলত ১৯৬৫ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী এই প্রজন্ম ১৯৮৯-৯০ সালের উত্তাল মণ্ডল কমিশন আন্দোলনের সময় প্রত্যক্ষভাবে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা এবং ঐতিহাসিক রূপান্তরের সাক্ষী ছিল। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC)-এর সমতা সংক্রান্ত বিধি নিয়ে উচ্চবর্ণের একাংশের ভেতরে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা সেই পুরনো রাজনৈতিক স্মৃতিকে ফের উসকে দিচ্ছে। যদিও সংশ্লিষ্ট বিধিটি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে, তবুও কেন্দ্র তা পুরোপুরি প্রত্যাহার না করায় উচ্চবর্ণের মানুষের মনে গভীর উদ্বেগ রয়েই গেছে।

দেশমুখের জোরালো মত, ‘জেন এক্স’-এর একটি অংশের তীব্র আশঙ্কা রয়েছে যে, তাঁদের সন্তানদেরও ভবিষ্যতে সংরক্ষণ ও জাতিগত বৈষম্য সংক্রান্ত একই ধরনের জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে। ১৯৯০ সালে তৎকালীন ভিপি সিং সরকারের আমলে মণ্ডল কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করার পর কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরি ও উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ওবিসি-দের জন্য ২৭ শতাংশ সংরক্ষণ চালু করা হয়েছিল, যার জেরে উত্তর ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাপক আন্দোলন ও বিক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছিল। উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশে উচ্চবর্ণের ভোটাররা বরাবরই বিজেপির দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান ও বিশ্বস্ত ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে পরিচিত। ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়সহ উচ্চবর্ণের বিভিন্ন সম্প্রদায় রাজ্যের মোট ভোটারের প্রায় ২০ শতাংশেরও বেশি। ফলে এই শক্তিশালী ভোটব্যাঙ্কের মনোভাব সামান্য পরিবর্তিত হলেও তা বিজেপির নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।