নিয়মিত শরীরচর্চা কেবল হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতিই ঘটায় না, উচ্চ রক্তচাপ (High Blood Pressure) বা হাইপারটেনশনের মতো মারণ রোগকে দূরে রাখতেও সাহায্য করে। এমনকি, যারা ইতিমধ্যেই এই রোগে আক্রান্ত, তাদের রক্তচাপ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে এক্সারসাইজের জুড়ি মেলা ভার। ব্রিটিশ জার্নাল অব স্পোর্টস মেডিসিন-এ প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, যাদের পরিবারে রক্তচাপের রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের প্রতিদিন শরীরচর্চা করা বাধ্যতামূলক।
ব্রিটিশ গবেষকদের এই গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত এক্সারসাইজ শুধুমাত্র রক্তচাপই নিয়ন্ত্রণ করে না, এটি আরও একাধিক শারীরিক ও মানসিক উপকার প্রদান করে। জেনে নিন এর সাতটি প্রধান সুবিধা:
১. হার্ট ও ফুসফুসের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এনার্জি: নিয়মিত শরীরচর্চা করলে দেহের প্রতিটি অংশে অক্সিজেন-সমৃদ্ধ রক্তের প্রবাহ বাড়ে। এর ফলে হার্ট এবং ফুসফুসের কার্যকারিতা চোখে পড়ার মতো বৃদ্ধি পায়। সার্বিকভাবে শরীর চাঙ্গা থাকে এবং এনার্জির ঘাটতি দূর হয়।
২. অনিদ্রার সমাধান: ঘুম না আসার (Insomnia) সমস্যায় যারা ভোগেন, তাদের জন্য নিয়মিত এক্সারসাইজ একটি অব্যর্থ সমাধান। শরীরচর্চা করলে শরীর স্বাভাবিকভাবেই ক্লান্ত হয় এবং মস্তিষ্কে কিছু বিশেষ হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে, যা গভীর ঘুম আনতে সাহায্য করে।
৩. হাড়ের রোগ দূরে থাকে: নিয়মিত হাঁটা বা দৌড়ানোর পাশাপাশি ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেলে হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে এবং জয়েন্টের সচলতা বাড়ে। ফলে বয়সের কারণে অস্টিওপোরোসিসের মতো হাড়ের রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় থাকে না বললেই চলে।
৪. মানসিক অবসাদ (Depression) মুক্তি: এক্সারসাইজের সময় মস্তিষ্কে ‘ফিল-গুড’ হরমোনের ক্ষরণ বৃদ্ধি পায়, যার কারণে মন-মেজাজ সঙ্গে সঙ্গে চাঙ্গা হয়ে ওঠে। তাই মন খারাপ হলেই কিছুক্ষণ শরীরচর্চা করলে মানসিক অবসাদ সহজেই দূর হয়।
৫. স্মৃতিশক্তির উন্নতি: গবেষণায় প্রমাণিত যে নিয়মিত শরীরচর্চা মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাস (Hippocampus) অংশের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, যা স্মৃতিশক্তি (Memory Power) বাড়াতে সাহায্য করে। বর্তমান সময়ে ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিলোপের প্রকোপ যেভাবে বাড়ছে, তাতে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষা করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
৬. আত্মবিশ্বাস ও মনোবল বৃদ্ধি: প্রতিদিন ৩০ মিনিট শরীরচর্চা করলে শারীরিক ও মানসিক সতেজতা বাড়ে। এটি শুধু এনার্জির ঘাটতিই দূর করে না, বরং আত্মবিশ্বাস বা মনোবলকে বহুগুণে বাড়িয়ে তোলে, যা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সাফল্য পেতে সহায়ক।
৭. স্ট্রেস এবং উদ্বেগ হ্রাস: কাজের চাপ বা অন্যান্য কারণে তৈরি হওয়া মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে শরীরচর্চার বিকল্প নেই। এক্সারসাইজের সময় মস্তিষ্কে ‘নোরেপিরেফিরিন’ হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে, যা স্ট্রেস লেভেল কমাতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে টক্সিক উপাদান বেরিয়ে যাওয়ায় মন অনেক হালকা হয়।