ইমরান খানের ছেলেদের সাক্ষাৎকার সম্প্রচার নিয়ে বিতর্কের ঝড়! অন্ধকারে ছিলেন কোচ সরফরাজও

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চলমান গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজের মাঝেই ফের তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। একদিকে যখন বাইশ গজে হারের ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে, ঠিক তখনই মাঠের বাইরের নানা ঘটনায় অন্দরের অচলাবস্থা আবারও প্রকাশ্যে চলে এসেছে। বিশেষ করে লর্ডস টেস্ট চলাকালীন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দুই ছেলের একটি সাক্ষাৎকার সম্প্রচার ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনার পারদ চরমে পৌঁছেছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচারিত হলে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে লর্ডস টেস্ট বয়কট করার মতো কঠোর হুমকি দিয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বিশাল বিতর্কের কোনো ঘুণাক্ষরও নাকি টের পাননি দলের কোচ কিংবা খেলোয়াড়েরা।

চলমান তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে শুরু থেকেই নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হয়েছে পাকিস্তানের কোচ সরফরাজ আহমেদকে। হেডিংলিতে সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু হওয়ার আগেই তাঁকে নিশ্চিত করতে হয়েছিল যে দলের তারকা ব্যাটার বাবর আজম ম্যাচে থাকছেন না। এরপর লর্ডস টেস্টের দ্বিতীয় দিনে মাত্র ১১০ রানে পাকিস্তানের পুরো ব্যাটিং লাইনআপ গুটিয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ইংল্যান্ডের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের সামনে তরুণ ব্যাটার আজান আওয়াইস একা লড়ে গেলেও দলের চরম ব্যাটিং বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়নি। এরপর ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে কোচ সরফরাজের মুখোমুখি হন সাংবাদিকরা। দলের ব্যর্থতা ও বোলিং আক্রমণের দাপট নিয়ে প্রশ্ন করার পাশাপাশি এক ইংরেজ সাংবাদিক ইমরান খানের দুই ছেলে সুলেমান ও কাসিম খানের আলোচিত সাক্ষাৎকার সংক্রান্ত বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে আনেন।

সেই প্রশ্নের জবাবে কোচ সরফরাজ আহমেদ সাফ জানিয়ে দেন যে এই বিস্ফোরক বিষয় সম্পর্কে তাঁর কিংবা দলের অন্য কারোর কাছে কোনো ধারণাই ছিল না। তিনি সম্পূর্ণভাবে ম্যাচের প্রতি মনোযোগী ছিলেন বলে দাবি করেন। উল্লেখ্য, ২০২৩ সাল থেকে দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার তথা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। স্কাই স্পোর্টস চ্যানেলে লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনের লাঞ্চের সময় তাঁর দুই ছেলেকে নিয়ে তৈরি একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার সম্প্রচারিত হয়। একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, এই সাক্ষাৎকারটি দেখানো হলে ইংল্যান্ড সফর ও লর্ডস টেস্ট বয়কট করবে পিসিবি। যদিও শেষ পর্যন্ত ব্রিটেনে নির্ধারিত সময়েই সেই সাক্ষাৎকার সম্প্রচারিত হয় এবং বিরতি শেষে পাকিস্তানি ক্রিকেটাররাও স্বাভাবিকভাবেই মাঠে নেমে পড়েন।

এদিকে পাকিস্তানের নিজস্ব রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারকারী সংস্থা পিটিভি অবশ্য দেশে ওই সাক্ষাৎকারটি দেখায়নি। তারা স্কাই স্পোর্টসের ফিড ব্যবহার করে ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করলেও সাক্ষাৎকারের সময় কেবল বিজ্ঞাপন দেখায়। কিন্তু লর্ডসের ড্রেসিংরুমে থাকা কিছু পাকিস্তানি খেলোয়াড়কে লাঞ্চের সময় ওই সাক্ষাৎকারটি দেখতে দেখা গিয়েছিল বলে খবর মেলে। দলের অভ্যন্তরে এহেন চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হলেও কোচ সরফরাজের দাবি, ড্রেসিংরুমের পরিবেশ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল এবং ক্রিকেটাররা নিজেদের খেলায় মন দিয়েছিলেন। সবমিলিয়ে, মাঠের বাইরের এই রাজনৈতিক ও মিডিয়া বিতর্ক পাকিস্তান দলের মনোবলকে আরও দুর্বল করে দিয়েছে। আসন্ন ম্যাচগুলিতে এই অস্থিরতার প্রভাব কতটা পড়ে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।