‘বিমানে চড়বেন না!’ আকাশছোঁয়া ভাড়াবৃদ্ধি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্যে শোরগোল দেশজুড়ে

উৎসবের মরশুম কিংবা ছুটির দিন এলেই বিমানের টিকিটের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তার অন্ত থাকে না। চাহিদা বাড়ার সুযোগ নিয়ে বিমান সংস্থাগুলি ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়ায় বলে অভিযোগ বহুদিনের। ঠিক এই পরিস্থিতিতেই বিমানভাড়া আকাশছোঁয়া হয়ে যাওয়ায় তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক আইনজীবী। কিন্তু সেই মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ যে মন্তব্য করল, তা নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে।
জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ:
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি অপারেশ কুমার সিংয়ের বেঞ্চে এই চাঞ্চল্যকর বিষয়টি উত্থাপন করেন ওই আইনজীবী। তাঁর অভিযোগ ছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রুটে বিমানের ভাড়া প্রায় ৭০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন জানানো হলেও আদালত তা খারিজ করে দেয়। উলটে আদালতের তরফে স্পষ্ট ভাষায় মন্তব্য করা হয়, ‘বিমানে চড়বেন না।’
সংবিধানের পরিপন্থী ভাড়াবৃদ্ধি?
আ আদালতের এমন মন্তব্যের পর পাল্টা যুক্তি দিয়ে আইনজীবী জানান, বর্তমান যুগে বিমান পরিষেবা কেবল বিলাসিতা নয়, এটি অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবার অন্তর্ভুক্ত। ফলে লাগামছাড়া এই ভাড়াবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার এবং সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদের সরাসরি পরিপন্থী।
আগেও উঠেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের দাবি:
উল্লেখ্য, এর আগেও দেশের বিভিন্ন বিমান সংস্থার লাগামহীন ভাড়া বৃদ্ধির প্রবণতা নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালত। ইতিপূর্বে সমাজকর্মী এস লক্ষ্মীনারায়ণন এই বিষয়ে একটি জনস্বার্থ মামলাও দায়ের করেছিলেন। সেই আবেদনে স্পষ্ট জানানো হয়েছিল যে, বিমানভাড়া নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা জরুরি। পাশাপাশি, যাত্রীদের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে এবং ভাড়ার এই অস্বাভাবিক ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে একটি স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনেরও জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। এখন দেখার, এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের স্বস্তি দিতে আদালত বা সংশ্লিষ্টমহল কী পদক্ষেপ নেয়।