ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাওয়া দেবী ফিরছেন! মুর্শিদাবাদের সেরা পর্যটন গ্রামে রানীর রাজরাজেশ্বরী পুজো

দুর্গাপূজার ছুটিতে মুর্শিদাবাদ ঘুরতে গেলে ঐতিহাসিক বড়নগরের রাজরাজেশ্বরী মায়ের মন্দির ঘুরে আসা আপনার জন্য এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা হতে পারে। এককালের বাণিজ্যকেন্দ্র এই বড়নগর এখন দেশের সেরা পর্যটন গ্রাম হিসাবে পরিচিত। আর এখানকার রাজরাজেশ্বরী পূজার গল্প আরও চমকপ্রদ।
প্রায় ৩০ বছর আগে, রানির প্রাসাদের কাছে থাকা পরিত্যক্ত মন্দির থেকে পিতলের তৈরি রাজরাজেশ্বরী মূর্তিটি চুরি হয়ে গিয়েছিল। পুলিশ মূর্তিটি উদ্ধার করলেও দীর্ঘদিন তা জিয়াগঞ্জ থানার মালখানায় পড়ে ছিল। কেউ মূর্তিটি ফেরত নিতে আসেনি। এরপর ধীরে ধীরে মন্দিরটির অবস্থাও খারাপ হতে থাকে।
অবশেষে রানি ভবানীর বর্তমান বংশধর শুভশ্রী বাগচীর উদ্যোগে ও ৬ লক্ষ টাকা অনুদানে কয়েক বছর আগে মন্দিরটি নতুন করে সংস্কার করা হয়। এরপরই সেই মূর্তি নতুন মন্দিরে আবার প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেই থেকেই শুরু হয় নিত্যদিনের পূজা ও সেবা।
দুর্গাপূজার চারদিন ভক্তদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ। পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্য এই পূজা ও মেলা এখানকার প্রায় মরে যাওয়া পর্যটন শিল্পকে আবারও জাগিয়ে তুলেছে।
ভাগীরথী নদীর তীরে অবস্থিত এই মন্দিরে পূজার পাশাপাশি ভক্তদের জন্য ভোগেরও ব্যবস্থা করা হয়। তাই দুর্গাপূজার সময় মুর্শিদাবাদে ঘুরতে গেলে একদিনের জন্য অবশ্যই এই ঐতিহাসিক মন্দির ঘুরে আসতে পারেন।