ইউপি বোর্ডে প্রথম, আইআইটি থেকে হার্ভার্ড! বিরোধীদের নিশানায় থাকা CEC জ্ঞানেশ কুমারের শিক্ষাগত যোগ্যতা জানলে চমকে যাবেন

দেশজুড়ে নির্বাচন কমিশন ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। ‘ইন্ডিয়া’ জোটের আন্দোলন এবং বিরোধী দলগুলির লাগাতার পদত্যাগের দাবির মুখে বর্তমানে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দেশের ২৬তম মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এই তীব্র রাজনৈতিক লড়াইয়ের মাঝেই নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে তাঁর অত্যন্ত বর্ণময় শিক্ষাগত জীবন এবং তাক লাগানো কেরিয়ারগ্রাফ।

ইউপি বোর্ডের কৃতি ছাত্র থেকে আইআইটি কানপুর

১৯৬৪ সালে জন্ম নেওয়া জ্ঞানেশ কুমারের পড়াশোনা শুরু হয়েছিল উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর, লখনউ এবং কানপুরে। মেধার সাক্ষর রেখে তিনি ১৯৭৯ সালে উত্তরপ্রদেশ বোর্ডের হাইস্কুল পরীক্ষায় এবং ১৯৮১ সালে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় রাজ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন।

লখনউয়ের বিখ্যাত কলভিন তালুকদার কলেজ থেকে স্কুলশিক্ষা শেষ করার পর তিনি দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইটি কানপুর (IIT Kanpur)-এ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করতে যান। ১৯৮৫ সালে তিনি সেখান থেকে বি-টেক ডিগ্রি অর্জন করেন। আইআইটি কানপুরের কৃতী প্রাক্তনীদের তালিকাতেও তাঁর নাম উজ্জ্বল।

হার্ভার্ডের পড়াশোনা ও বর্ণময় আইএএস জীবন

শুধু ইঞ্জিনিয়ারিংয়েই নয়, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে একাধিক পালক রয়েছে তাঁর মুকুটে। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশাপাশি তিনি ভারত থেকে আইসিএফএআই (ICFAI) থেকে বিজনেস ফিন্যান্স এবং বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়-এর ‘হার্ভার্ড ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট’ থেকে এনভায়রনমেন্টাল ইকোনমিক্স বা পরিবেশ অর্থনীতি নিয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন।

এরপর সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৮৮ ব্যাচের কেরালা ক্যাডারের আইএএস (IAS) অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা অর্জনের পর ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি তিনি দেশের ২৬তম মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের কার্যপদ্ধতি ও একাধিক আইনি জটিলতা নিয়ে দেশজুড়ে প্রবল রাজনৈতিক বিতর্ক চললেও, তাঁর এই শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত অতীত এখন নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।