গুরু-শিষ্যকে পিটিয়ে খুন করে চিতায় তুলল আততায়ী! উত্তরপ্রদেশের মন্দির চত্বরে এই জঘন্য কাণ্ডে শিউরে উঠবেন

উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুর জেলায় একটি মন্দির চত্বরে ঘটে যাওয়া এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মন্দিরে বসবাসকারী গুরু-শিষ্য দুই সাধুকে অত্যন্ত নির্মমভাবে খুন করার পর তাদের মৃতদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সকালে স্থানীয় গ্রামবাসীরা মন্দিরে এসে পুড়ে যাওয়া কঙ্কাল দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই প্রধান অভিযুক্ত সুমিত সিংকে আটক করেছে পুলিশ।
কীভাবে ঘটেছিল এই মর্মান্তিক ঘটনা?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত বাবা গোপাল দাস এবং বাবা বিহারী দাস ওই মন্দির চত্বরের বারান্দায় একসঙ্গে বসবাস করতেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত সুমিত সিং রাতের অন্ধকারে লাঠি দিয়ে আক্রমণ করে দুই সাধুকে brutally হত্যা করে। এরপর পৈশাচিক কায়দায় মৃতদেহ দুটিকে মন্দির চত্বরের ভেতরে একটি বেদির ওপর রেখে তাতে কাঠ দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় সে। সকালে স্থানীয় মানুষরা এসে পুরো ঘটনাটি দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে বরেলি রেঞ্জের এডিজি রমিত শর্মা এবং ডিআইজি অজয় সাহনিসহ শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
জমি বিবাদ নাকি পূর্ব শত্রুতা? নেপথ্যের কারণ কী?
প্রাথমিক তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে মন্দিরের জমি সংক্রান্ত একটি পুরোনো বিরোধের তত্ত্ব সামনে এসেছে। মন্দিরের তত্ত্বাবধায়ক এবং নিহত সাধুর পরিবারের অভিযোগ, যে জমির ওপর মন্দিরটি রয়েছে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছিল। অভিযুক্ত সুমিত সিংয়ের পরিবারের সঙ্গে এই জমি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে অতীতেও সাধুদের একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। যদিও নিহত সাধুদের পরিবারের দাবি, জমি বা অন্য কোনো কিছুর সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না, তবুও অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় তাঁদের টার্গেট করা হয়েছে। অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে এবং পুরো ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে আর কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে জোরদার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।