বাংলাদেশে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় ঘটেছে বলে সরব হলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একটি প্রথমসারির সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রবাদ এবং ‘মব মেন্টালিটি’ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে হিন্দুদের ওপর ধারাবাহিক হামলা এবং সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। হাসিনার দাবি, কট্টরপন্থী মতাদর্শকে প্রশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের বহুত্ববাদী চরিত্র মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা ভারতের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতার স্বার্থে এবং গণতন্ত্র ও সংখ্যালঘু সুরক্ষায় নয়াদিল্লিকে আরও শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে। তাঁর অভিযোগ, ইউনূস প্রশাসন নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে পরিকল্পিতভাবে ভারত-বিদ্বেষ উসকে দিচ্ছে। এমনকি ভারতীয় হাই কমিশনের সামনে বিক্ষোভকে তিনি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত বলে অভিহিত করেন। আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে তাঁর সাফ কথা, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচন হলে তার নৈতিক বৈধতা থাকবে না। কোটি কোটি মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এবং উগ্রবাদ দমনে একটি নির্বাচিত ও দায়িত্বশীল সরকারের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন।