আসল ‘জোড়াফুল’ কার দখলে? কালীঘাট না ঋতব্রত শিবির? শীর্ষ আদালতের এক নির্দেশে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সর ফাটল ধরেছে। ‘আসল তৃণমূল’ এবং জোড়াফুল প্রতীকের মালিকানা ঠিক কার—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট শিবির নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূলের? এই লড়াই গড়িয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে। সোমবার এই হাইভোল্টেজ মামলায় বড় নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। দুই পক্ষকেই নিজেদের স্বপক্ষে নথি ও হলফনামা পেশ করার জন্য মোট ২০ দিনের সময়সীমা দিল শীর্ষ আদালত।
তবে আদালতের নির্দেশের পাশাপাশি এদিন দিল্লির রাস্তায় নথিবাহী ট্রাকে দুষ্কৃতী হামলার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে বঙ্গ রাজনীতিতে পারদ আরও চড়িয়েছেন বিরোধী দলনেতা তথা বিক্ষুব্ধ তৃণমূল শিবিরের প্রধান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
‘ট্রাকে হামলা চালিয়ে নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টা!’ বিস্ফোরক ঋতব্রত
সোমবার সকালে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, তাঁদের শিবিরের স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় সমস্ত আইনি হলফনামা ও নথি নিয়ে একটি ট্রাক সড়কপথে দিল্লি যাচ্ছিল। সোমবার ভোর সাড়ে ৩টে নাগাদ দিল্লির কাছাকাছি পৌঁছলে সেই ট্রাকে দুষ্কৃতীরা হামলা চালায় এবং সমস্ত নথিপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
ঋতব্রতের সরাসরি দাবি, এই হামলার পেছনে রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট শিবির। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমাদের আর্থিক সঙ্গতি নেই, তাই চাটার্ড বিমানে নথি পাঠাতে পারিনি। রবিবার সন্ধ্যায় কালীঘাট শিবিরের হলফনামা চার্টার্ড ফ্লাইটে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছে যায়। কিন্তু আমাদের গরিবের ট্রাকের উপর মাঝরাস্তায় হামলা চালানো হয়েছে!”
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ: কাকে কত দিন সময় দেওয়া হলো?
সোমবার সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা পেশ করার শেষ দিন বা ‘ডেডলাইন’ ছিল। ট্রাকে হামলার জেরে এবং প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প পেপার না পাওয়ায় এদিন ঋতব্রত শিবিরের আইনজীবীরা আদালতে আরও দুই সপ্তাহের সময় আবেদন করেন।
কালীঘাট শিবিরের পক্ষ থেকে বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই অতিরিক্ত সময় চাওয়ার তীব্র বিরোধিতা করেন। তাঁর যুক্তি ছিল, অপর পক্ষ যদি বাড়তি সময় পায়, তবে তাঁদেরও সেই নথি খতিয়ে দেখে জবাব দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে।
দুই পক্ষের জোরালো সওয়াল-জবাব শুনে সুপ্রিম কোর্ট মধ্যবর্তী পথ বেছে নেয়:
ঋতব্রত শিবির (গণতান্ত্রিক তৃণমূল): নতুন করে নিজেদের স্বপক্ষে যাবতীয় প্রমাণ ও হলফনামা জমা দেওয়ার জন্য ১০ দিন সময় পেয়েছে।
মমতা শিবির (কালীঘাট তৃণমূল): ঋতব্রতদের জমা দেওয়া হলফনামা পাওয়ার পর তার পাল্টা জবাব বা হলফনামা পেশের জন্য অতিরিক্ত ১০ দিন সময় পাবে।
মোট সময়: দুই পক্ষ মিলিয়ে পুরো প্রক্রিয়াটির জন্য সুপ্রিম কোর্ট ২০ দিনের নমনীয় সময়সীমা ধার্য করেছে।
ঘাসের ওপর জোড়াফুল: অস্থায়ী প্রতীক ছেড়ে স্থায়ী প্রতীকের লড়াই
উল্লেখ্য, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ভাঙনের পর গত ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশন সাময়িকভাবে দুটি শিবিরকে দুটি পৃথক নাম ও চিহ্ন বরাদ্দ করেছিল।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছিল ‘ফুটবলার’ প্রতীক।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছিল ‘খাম’ প্রতীক।
তবে এই সমাধান ছিল সাময়িক। দলীয় আসল নাম ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং ঐতিহ্যের প্রতীক ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ কার পকেটে যাবে, তা নিয়ে চূড়ান্ত আইনি সংঘাত অব্যাহত। সুপ্রিম কোর্টে আগামী ২০ দিন পর হলফনামা জমা ও পাল্টা জবাবের পর্ব শেষ হলে এই প্রতীকের ভাগ্য নির্ধারণ কোন দিকে ঘোরে, সেদিকেই এখন নজর পুরো রাজ্য রাজনীতির।