“মমতাকে বাটি হাতে কলকাতায় পাঠাবো!” হলদিয়া পুরভোটের আগে গড় তমলুকে দাঁড়িয়ে চরম হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

দুর্গাপুজো মেটার পর রাজ্যজুড়ে বাজতে চলেছে পুরসভা নির্বাচনের দামামা। আর এই পুরভোটের আগেই নিজের শক্তঘাঁটি তমলুকে এসে বিরোধী শিবিরের উদ্দেশ্যে কড়া তোপ দাগলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেসকে একহাত নিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, আসন্ন হলদিয়া পুরভোটে বিরোধীদের খাতা খুলতেই দেবে না তাঁর দল।

“মমতাকে বাটি হাতে কলকাতায় পাঠাবো!”

সোমবার হলদিয়া-মেচেদা ১১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের কাকগাছিয়া এলাকায় তমলুক সাংগঠনিক জেলার স্থায়ী দলীয় কার্যালয় নির্মাণের জন্য আয়োজিত ‘ভূমি পূজন’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বড় জয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন:

“নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে আমাদের প্রার্থী হাসিরানি রথ বিরোধীদের পেছনে ফেলে ১ লক্ষ ২২ হাজার ভোটে বিপুল জয়লাভ করেছেন। সামনেই হলদিয়া পুরসভার ভোট। আমরা সেখানকার ৩০ টি আসনেই বিপুল ভোটে জয়লাভ করব। মমতার দল তৃণমূলকে একটাও খাতা খুলতে দেবো না। বাটি হাতে মমতাকে কলকাতায় পাঠাবো!”

শুভেন্দু আরও জানান, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই জেলা সভাধিপতি ও দলিত নেতৃত্বদের নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠক করবেন তিনি। কীভাবে জেলাকে সম্পূর্ণ ‘বিরোধী শূন্য’ করা যায়, সেই ছক কষে দ্রুত কাজ শুরু হবে।

স্থায়ী কার্যালয় ও স্থানীয় সংগ্রামীদের সম্মান

আগের সরকারের আমলে জায়গা ও অনুমতি মেলেনি বলে দাবি করে শুভেন্দু অধিকারী জানান, রাজ্যে সরকারের পরিবর্তন ঘটিয়েছে সাধারণ জনগণ। তাই এবার নিয়ম মেনেই দলীয় কার্যালয় গড়ে তোলা হচ্ছে।

একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, কেবল রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে নয়, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার স্বাধীনতা সংগ্রামীদের গৌরবময় অতীত ইতিহাস ও অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য এই ভবনে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে। আগের সরকার স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সঠিক গুরুত্ব দেয়নি বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।

উপস্থিত ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ নেতৃত্ব

এদিনের হাইভোল্টেজ ভূমি পূজন অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী হরেকৃষ্ণ বেরা ও অশোক দিন্দা। এছাড়া বিধায়ক প্রদীপ বিজলী, সুভাষচন্দ্র পাঁজা, নির্মাণ খাড়া, সদ্য জয়ী হাসিরানি রথ, সুব্রত মাইতি এবং তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি মলয় সিনহা ও জেলা সভাধিপতি বামদেব গুছাইত উপস্থিত ছিলেন।

তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করে তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি মলয় সিনহা বলেন, “ওদের অস্তিত্বই তো নেই, খাতা খুলবে কীভাবে? নন্দীগ্রামে ওরা প্রার্থী পর্যন্ত দিতে পারেনি। ব্যাংকেও খাতা নেই, তাই ভোটেও খাতা খোলার প্রশ্নই ওঠে না।” দীর্ঘদিন পর জেলায় স্থায়ী কার্যালয় তৈরি হতে চলায় উচ্ছ্বসিত বিজেপি নেতা-কর্মীরা।