২৮শে অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়তে হবে আমির খানের ভাগ্নেকে? মুম্বই পুলিশ-FRRO-র নির্দেশে বম্বে হাইকোর্টে তুমুল তোলপাড়!

বলিউড তারকা আমির খানের ভাগ্নে তথা জনপ্রিয় অভিনেতা ইমরান খানের মাথার ওপর ঝুলছে দেশ ছাড়ার খাঁড়া! ফরেনার্স রিজিয়োনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (FRRO)-র জারি করা ‘লিভ ইন্ডিয়া’ (Leave India) নোটিসকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবার বম্বে হাইকোর্টের আইনি লড়াইয়ে নামলেন ৪৩ বছর বয়সি এই অভিনেতা। আগামী মঙ্গলবার হাইকোর্টে এই মেগা মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
ঠিক কী কারণে বিপাকে ৪৩ বছর বয়সি অভিনেতা?
বলিউডে একের পর এক হিট ছবি উপহার দেওয়া ইমরান খান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (USA) নাগরিক হলেও তিনি দীর্ঘকাল ধরে ভারত সরকারের দেওয়া ওভারসিজ় সিটিজ়েন অফ ইন্ডিয়া (OCI) কার্ডের অধিকারী।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১০ই অক্টোবর। মুম্বইয়ের ঐতিহাসিক অগস্ট ক্রান্তি ময়দান সংলগ্ন এলাকায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আয়োজিত একটি নাগরিক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন তিনি।
বিজেপি নেতা কিরীট সোমাইয়া লিখিত অভিযোগ তোলেন যে, একজন বিদেশি নাগরিক হয়েও ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক কোনো প্রতিবাদে অংশ নিয়ে ইমরান খান অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করেছেন। সোমাইয়ার সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মুম্বই পুলিশ রিপোর্ট পাঠায় কেন্দ্র সরকারের FRRO দপ্তরে। আর এর জেরেই গত সপ্তাহে অভিনেতাকে আগামী ২৮শে অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার চরম নির্দেীশিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
আদালতে ইমরানের আইনি দলের বিস্ফোরক যুক্তি
FRRO-র জারি করা এই নির্দেশকে সম্পূর্ণ ‘অসাংবিধানিক’, বেআইনি এবং একপেশে বলে তোপ দেগেছেন ইমরানের আইনজীবীরা। বোম্বে হাইকোর্টে দায়ের করা পিটিশনে তাঁরা যে মূল পয়েন্টগুলি তুলে ধরেছেন:
আদালত ও আইনের তোয়াক্কা না করা: কোনো রকম প্রাথমিক তদন্ত, কারণ দর্শানোর নোটিস (Show Cause Notice) বা অভিনেতাকে নিজের বক্তব্য পেশ করার ন্যূনতম সুযোগ না দিয়েই তড়িঘড়ি এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্পষ্ট আইনি ধারার অভাব: নোটিসে নির্দিষ্টভাবে বলা নেই যে ইমরান খান ওসিআই (OCI) সংক্রান্ত কোন আইন বা নিয়ম ঠিক কীভাবে লঙ্ঘন করেছেন।
শান্তিপূর্ণ উপস্থিতি অপরাধ নয়: কোনো শান্তিসভা বা নাগরিক জমায়েতে দাঁড়িয়ে কথা বলা মানেই OCI কার্ডের শর্ত লঙ্ঘন— সরকারের এমন কঠোর ব্যাখ্যা পুরোপুরি অমূলক।
কোনো সংরক্ষিত এলাকা নয়: যে প্রতিবাদস্থলে তিনি উপস্থিত ছিলেন, সেটি কোনো সংরক্ষিত বা নিষিদ্ধ এলাকা ছিল না এবং তিনি পুলিশি ব্যারিকেড ভাঙেননি বা কোনো আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেননি। কেবল রাস্তার দিকে যাওয়ার সময় তাঁকে পুলিশ আটক করে এবং সেদিন সন্ধ্যায় ছেড়েও দেওয়া হয়।
তদন্তাধীন FIR-এর ভিত্তিতে দেশত্যাগ বেআইনি: কেবল একটি প্রাথমিক তদন্তাধীন পুলিশি রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে একজন নাগরিককে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি।
আইনি লড়াইয়ের অংশ হিসেবে বম্বে হাইকোর্টের কাছে এই নোটিস অবিলম্বে খারিজ করার কাতর আবেদন জানিয়েছেন অভিনেতা। একই সঙ্গে মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় যাতে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো লুক আউট সার্কুলার (LOC) জারি না হয়, বা ওসিআই (OCI) মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়— তার জন্য আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ সুরক্ষাও চেয়েছেন ইমরান খান।