জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেফতারি ও পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হবে দিল্লি! কাল ৫৭০টি মেট্রো স্টেশন বন্ধের চরম নির্দেশিকা

আগামীকাল শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা এবং তাঁর গ্রেফতারির দাবিতে রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র পূর্বনির্ধারিত প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। নির্বাচন কমিশনে কাঠামোগত সংস্কার এবং বিশেষ ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় নেওয়া সমস্ত বেআইনি সিদ্ধান্তের উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবিতে এই আন্দোলন গড়ে তুলেছে সিজেপি। তবে এই হাই-ভোল্টেজ বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীতে নজিরবিহীন কড়াকড়ি ও চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
দিল্লি পুলিশ সূত্রে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, কালকের এই প্রস্তাবিত বিক্ষোভের জন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেওয়া হয়নি। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, নিয়মবিধি অনুযায়ী এই ধরনের বিশাল কর্মসূচি বা প্রতিবাদের অন্তত ১০ দিন আগে পুলিশ প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা বাধ্যতামূলক থাকলেও, সিজেপি অত্যন্ত স্বল্প নোটিসে এই তথ্য জানিয়েছে। এদিকে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সম্ভাব্য তীব্র যানজট এড়াতে নয়াদিগন্তের নয়াদিল্লি জেলায় কঠোর বিধিনিষেধমূলক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এমনকি, শুক্রবার রাত থেকেই শনিবার পর্যন্ত দিল্লির প্রায় ৫৭টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনের এন্ট্রি ও এক্সিট গেট সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার জন্য দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (DMRC)-কে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে সিজেপি-র প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস এক সাংবাদিক বৈঠকে সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে হুংকার দিয়ে বলেছিলেন, “জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ করলেও আমরা মাথা নত করব না। আমরা নির্বাচন কমিশনে প্রকৃত এবং আমূল সংস্কার চাই। তা না হলে নির্বাচন কমিশন কোনোদিনই নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারবে না।” তিনি আরও স্পষ্ট ভাষায় জানান, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো কুমারকে পদত্যাগ করাতে বাধ্য করা এবং তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা তথা গ্রেফতারি নিশ্চিত করা। এসআইআর প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত করতে হবে। সরকার যদি এই দাবি না মানে, তবে আমরা কোনোভাবেই পিছু হটব না। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি ও জোরালো লড়াই হতে চলেছে।” দেশজুড়ে যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষকে এই আন্দোলনে সামিল হওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে শনিবারের এই রাজনৈতিক সংঘাতে দিল্লির জনজীবন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।