আমেরিকাকে পেছনে ফেলে বিশ্বের ১ নম্বর অর্থনীতি হবে ভারত? বড় ভবিষ্যদ্বাণী মার্কিন অর্থনীতিবিদের

বিশ্ব অর্থনীতির মানচিত্রে খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে ক্ষমতার সমীকরণ। এই বদলের মূল কেন্দ্রবিন্দু এখন এশিয়া, আর সেই পরিবর্তনের যাত্রায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে চলেছে ভারত। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট অধ্যাপক তথা খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ জেফরি স্যাক্স সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দাবি করেছেন যে, আগামী ২৫ বছরের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে ভারত। শুধু তাই নয়, দীর্ঘমেয়াদে আমেরিকার মতো সুপারপাওয়ার দেশকে পিছনে ফেলে বিশ্বের এক নম্বর অর্থনীতি হওয়ার পূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে ভারতের।
এশিয়ার দিকেই ফিরছে বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্র
দীর্ঘকাল ধরে বৈশ্বিক অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি ছিল এশিয়া। তবে ইতিহাসের এক পর্যায়ে শিল্পবিপ্লবের হাত ধরে সেই কেন্দ্রবিন্দু পশ্চিমের দেশগুলিতে সরে গিয়েছিল। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ জেফরি স্যাক্সের মতে, ইতিহাসের সেই চাকা এবার ঘুরতে শুরু করেছে এবং বিশ্ব অর্থনীতির মাধ্যাকর্ষণ কেন্দ্র পুনরায় এশিয়ার দিকেই ফিরে আসছে। এই পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে ভারত এবং চিন বিশ্বের প্রধান দুই অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে উঠে আসতে পারে বলে তাঁর ধারণা।
আমেরিকা চলে যেতে পারে তৃতীয় স্থানে
স্যাক্সের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী এক চতুর্বাশ শতাব্দীর মধ্যেই বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কাঠামোর ছবিটা সম্পূর্ণ বদলে যাবে। সেই সময়ে চিন ও ভারত তালিকার শীর্ষে অবস্থান করবে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নেমে যেতে পারে তৃতীয় স্থানে। বর্তমানে অন্যান্য প্রধান অর্থনীতির তুলনায় ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির গতি যথেষ্ট শক্তিশালী। যদি এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, তবে আগামী কয়েক দশকে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে। তবে তিনি এও স্পষ্ট করেছেন যে, নির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ বেঁধে এই পরিবর্তন মাপা সম্ভব নয়, এটি মূলত একটি দীর্ঘমেয়াদী বৈশ্বিক রূপান্তর।
ভারত-চিন অর্থনৈতিক সহযোগিতা কতটা জরুরি?
রাজনৈতিক বা সীমান্ত সংক্রান্ত নানা জটিলতা এবং আস্থার ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও ভারত ও চিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অর্থনৈতিক দিকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। স্যাক্সের মতে, ভারত ও চিন—উভয় দেশই একে অপরের পরিপূরক। চিনের উন্নত প্রযুক্তি এবং বিপুল বিনিয়োগের সঙ্গে যদি ভারতের বিশাল কর্মক্ষম জনসংখ্যা ও গতিশীল বাজার যুক্ত হয়, তবে দুই দেশেরই উন্নয়নের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পেতে পারে। এই দুই এশীয় পরাশক্তির বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব কেবল তাদের নিজেদের অর্থনীতিকেই নয়, গোটা বিশ্ব বাজারকেই প্রভাবিত করবে।
ভারতের সামনে সুযোগ এবং বড় চ্যালেঞ্জ
জনসংখ্যার লভ্যাংশ বা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড ভারতের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। দেশের তরুণ প্রজন্মের একটি বিরাট অংশ কর্মক্ষম বয়সে রয়েছে। পাশাপাশি, উপসাগরীয় অঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং আফ্রিকার বাজারগুলির সঙ্গে ভৌগোলিক নৈকট্য ভারতকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু জিডিপি বা বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়াটাই শেষ কথা নয়। দেশের অভ্যন্তরে মাথাপিছু আয়ের বৈষম্য দূর করা এবং সর্বস্তরের মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়া আগামী দিনে ভারতের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকবে।