আমেরিকাকে তৈল-মর্দন? ট্রাম্পকে ‘পৃথিবীর বিরলতম জিনিস’ দেখালেন শাহবাজ-মুনির! কী এমন আছে সেই কাঠের বাক্সে?

আমেরিকাকে ‘তৈল-মর্দন’ করার কোনো সুযোগই হাতছাড়া করে না ভারতের প্রতিবেশী পাকিস্তান (Pakistan)। সেই প্রবণতার প্রমাণ ফের একবার দেখা গেল। সম্প্রতি ওভাল হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন পাক-প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif) ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির (Asim Munir)। হোয়াইট হাউসে বৈঠকের পর ট্রাম্পকে পৃথিবীর এক ‘বিরল’ জিনিস দেখিয়েছেন তাঁরা, যা দেখে হতবাক মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

কাঠের বাক্সে কী ছিল?
ওভাল অফিস থেকে প্রকাশিত ট্রাম্প, শাহবাজ ও মুনিরের একটি ছবি বর্তমানে ভাইরাল হয়েছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে—ট্রাম্পকে একটি কাঠের বাক্স খুলে কিছু একটা দেখাচ্ছেন পাক-প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান। হাসিমুখে বাক্সটি খুলে দেখাচ্ছেন মুনির।

জানা গেছে, ওই বাক্সের মধ্যে ছিল পৃথিবীর এক ‘বিরল খনিজ’ (Rare Mineral)। বস্তুটি খুব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন ট্রাম্প। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, একটি মার্কিন ধাতু কোম্পানির সঙ্গে পাকিস্তানের ৫০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক সপ্তাহের মাথায় ওভাল অফিসে এই বৈঠক হয়।

‘পাকিস্তানের মাটির নীচে ধনভান্ডার’
পাকিস্তান আশা করছে, আমেরিকা তাদের এই খনিজ দ্রব্য এবং অপরিশোধিত তেলের প্রতি আকর্ষিত হয়ে বাণিজ্যে বিনিয়োগ করবে। সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির আগে উল্লেখ করেছিলেন, “পাকিস্তানের মাটির নীচে ধনভান্ডার আছে। সেই দিয়েই ঋণ শোধ করবে পাকিস্তান।”

বছরের শুরুতে শাহবাজ শরিফও দাবি করেছিলেন, পাকিস্তানের ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের খনিজ সম্পদ রয়েছে। তাঁর আশা, খনিজ খাতে বিদেশী বিনিয়োগ দেশকে তার দীর্ঘস্থায়ী আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে এবং বিশাল বিদেশী ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত করতে সাহায্য করবে। বর্তমানে পাক-সরকারের আশা আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে সাহায্য করবে।

কাঁটা বালুচিস্তানে
পাকিস্তানের বেশিরভাগ খনিজ সম্পদই রয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমের বালুচিস্তানে। যা বর্তমানে পাকিস্তানের জন্য ‘বিষফোঁড়া’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ স্বাধীন বালুচিস্তানের দাবিতে সেখানে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (BLA)। পাক-সেনাবাহিনীর সঙ্গে প্রায়শই তাদের সংঘর্ষ বাঁধছে। সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরও BLA-কে “সন্ত্রাসী সংগঠন” হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

এই অস্থিরতার মাঝে বালুচিস্তান থেকে খনিজ সম্পদ আহরণ করে ট্রিলিয়ন ডলারের স্বপ্ন পূরণ করা পাকিস্তানের পক্ষে কতটা সম্ভব হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।