‘আমি সম্পূর্ণ বিরোধী ছিলাম!’ স্বামীর প্রধানমন্ত্রী হওয়া নিয়ে মুখ খুললেন সনিয়া গান্ধী, ছড়ালো চরম চাঞ্চল্য

স্বামীর প্রধানমন্ত্রী হওয়া নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করে রাজ্য থেকে জাতীয় রাজনীতিতে ঝড় তুললেন কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধী। তাঁর স্পষ্ট দাবি, স্বামী রাজীব গান্ধীকে যখন দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তখন তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধী ছিলেন। তাঁর আসন্ন বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ‘Belonging: A Journey of Love’ প্রকাশের ঠিক আগে এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা।
আহ্বামী নেত্রীর দাবি, এই বই প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হতে পারে ব্যাপক ‘তমাশা’।
কেন আপত্তি ছিল সোনিয়ার?
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি বিশেষ ভিডিওয় সনিয়া গান্ধী নিজেই এই গোপন অনুভূতির কথা প্রকাশ্যে এনেছেন। কেন তিনি স্মৃতিকথা লেখার সিদ্ধান্ত নিলেন, তার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, জীবনের প্রতিটি ঘটনাকে তিনি যেভাবে দেখেছেন ও অনুভব করেছেন, সেই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিজের মতো করে তুলে ধরার সুযোগ দিয়েছে এই বই।
সোনিয়ার কথায়, “কিছু মানুষ হয়তো আমার সম্পর্কে তাঁদের ধারণা বদলাবেন। কারও কারও ধারণা আরও খারাপও হতে পারে। কিন্তু সেটা স্বাভাবিক। আপনি যখন বই লেখেন বা জনজীবনে থাকেন, তখন এমন প্রতিক্রিয়া আসবেই। এখানে যেমন বলা হয়, একটা তমাশা তো হবেই।”
উল্লেখ্য, এর আগেও জাভিয়ের মোরোর বিখ্যাত উপন্যাস ‘Red Sari’-তে দাবি করা হয়েছিল যে, রাজীবের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সিদ্ধান্তকে সনিয়ার কাছে মৃত্যুদণ্ডের মতো মনে হয়েছিল এবং তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। তবে এবার খোদ সনিয়ার মুখ থেকেই সেই আপত্তির কথা প্রকাশ্যে আসায় নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
১০ নভেম্বর আসছে বহুল প্রতীক্ষিত স্মৃতিকথা
আগামী ১০ নভেম্বর প্রকাশিত হতে চলেছে সনিয়া গান্ধীর এই স্মৃতিকথা ‘Belonging: A Journey of Love’। ইতালির শৈশব থেকে শুরু করে ভারতের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁর দীর্ঘ যাত্রা, গান্ধী পরিবারের নানা ব্যক্তিগত মুহূর্ত এবং কংগ্রেসের মুকুটহীন সম্রাজ্ঞী হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে বইটিতে।
স্মৃতিকথায় মূলত যে বিষয়গুলি গুরুত্ব পেয়েছে:
যুদ্ধ-পরবর্তী ইতালির ভেনেতো অঞ্চলে শৈশব এবং ১৯৬৫ সালে কেমব্রিজে রাজীব গান্ধীর সঙ্গে প্রথম পরিচয়।
রাজীবের সঙ্গে বিবাহ, শাশুড়ি তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার লড়াই।
সঞ্জয় গান্ধীর বিমান দুর্ঘটনা, ১৯৮৪ সালে ইন্দিরা গান্ধীর হত্যাকাণ্ড এবং ১৯৯১ সালে রাজীব গান্ধীর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের মতো শোকাবহ ঘটনা।
২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ঐতিহাসিক জয় এবং নিজের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের নেপথ্য কারণ।
ডিজিটাল দুনিয়ায় আত্মপ্রকাশ সোনিয়ার
স্মৃতিকথার প্রচারের অংশ হিসেবে গত ২২ অক্টোবর ইনস্টাগ্রাম ও এক্সে (সাবেক টুইটার) নিজের ভেরিফাইড অ্যাকাউন্ট থেকে প্রথম ভিডিও প্রকাশ করেন সনিয়া গান্ধী। প্রথা ভেঙে নিজের অ্যাকাউন্টে স্মৃতিকথার কপির সঙ্গে মেয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরার সঙ্গে মিষ্টি ভাগ করে নেওয়ার মুহূর্তও শেয়ার করেন তিনি। নিজের সন্তান রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার পাশাপাশি দলীয় অ্যাকাউন্টও অনুসরণ করেছেন তিনি। এই বইটি তাঁর ভাষায়— “ভালোবাসা, কর্তব্য, হারানো এবং নিজের জায়গা খুঁজে পাওয়ার এক অনন্য কাহিনি।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১০ নভেম্বর বইটি প্রকাশ্যে আসার পর রাজীব গান্ধীর রাজনীতিতে প্রবেশ ও গান্ধী পরিবারের অন্দরমহলের বহু অজানা সমীকরণ নিয়ে নতুন করে ঝড় উঠতে চলেছে।