“আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান”-ভোটের আগে মমতার নয়া প্রকল্প, বুথ পিছু বরাদ্দ ১০ লক্ষ টাকা

আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজ্যজুড়ে স্থানীয় স্তরের সমস্যা সমাধানে এক অভিনব উদ্যোগ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ শীর্ষক এক নতুন প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন। এই কর্মসূচির লক্ষ্য, পাড়ায় পাড়ায় ছোটখাটো সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধান করা। এই প্রকল্পের জন্য প্রতিটি বুথে ১০ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছে, যার মোট বাজেট প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পে মূলত পাড়াভিত্তিক ছোট ছোট কাজ, যেমন – একটি নতুন কল স্থাপন, বিদ্যুৎহীন এলাকায় পোল বসানো, অথবা স্কুলের ছাদ মেরামত করা – ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “আমাদের প্রকল্পে বহু মানুষ অংশ নিয়েছে। যদিও এটা একটি ছোট প্রোগ্রাম। প্রধানমন্ত্রী বারবার আত্মনির্ভরতার কথা বলেছেন, কিন্তু কার্যত কিছু হয়নি। আমাদের এই প্রোগ্রাম সারাদেশে প্রথম। এটি একটি অতিরিক্ত প্রোগ্রাম।”

এই প্রকল্পের কার্যপদ্ধতি ব্যাখ্যা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গ্রামের ছোট ছোট সমস্যা সরকারি অফিসাররা শুনবেন। তিনটি বুথ নিয়ে একটি সেন্টার বা পাড়া গঠিত হবে। রাজ্যের মোট ৮০ হাজার বুথের জন্য একদিন করে ক্যাম্প করা হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে প্রায় ২ মাস সময় লাগবে। প্রতিটি বুথে সারাদিন সরকারি অফিসারেরা উপস্থিত থাকবেন, যেখানে সাধারণ মানুষ তাদের সমস্যা জানাতে পারবেন। আলোচনা করে সরকারি অফিসাররা ঠিক করবেন কী করা সম্ভব এবং কাজ হবে অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, এত আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও রাজ্য এই বিপুল অর্থ ব্যয় করবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, অনেক সময় গ্রাম বা ছোট বুথগুলির সমস্যা পঞ্চায়েত স্তরে সমাধান করা সম্ভব হয় না। এই নতুন কর্মসূচি পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেই ঘাটতি পূরণের জন্যই গ্রহণ করেছে। আগামী ২ আগস্ট থেকে এই প্রকল্প শুরু হবে। এর পাশাপাশি, ডিসেম্বরে ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হবে।

গতকাল একুশে জুলাইয়ের বিশাল সমাবেশের পর আজ এই নতুন সরকারি প্রকল্পের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, রাজনৈতিক মঞ্চে সরকারি প্রকল্পের কথা ঘোষণা না করার নীতি অনুসরণ করে তিনি পৃথক সাংবাদিক বৈঠক করে এই নতুন কর্মসূচির কথা জানিয়েছেন। নির্বাচনের আগে এই জনমুখী প্রকল্পের ঘোষণা রাজ্যের ভোট রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।