“আমাকে টার্গেট করা হচ্ছে!” ED তল্লাশির পরই বিস্ফোরক দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু, আসল কারণ কী?

পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের তৎপর কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। শুক্রবার সকালে রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর লেকটাউনের শ্রীভূমি লেক ভিউ অ্যাপার্টমেন্টের আবাসন এবং তাঁর অফিসে তল্লাশি চালানো হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনী সঙ্গে নিয়ে একযোগে ঠনঠনিয়া, শরৎ বোস রোড, নিউ আলিপুর, সল্টলেক এবং নাগেরবাজার-সহ প্রায় ১০টি ঠিকানায় অভিযান শুরু করেন ED-র আধিকারিকরা।
তবে এই তল্লাশি নিয়ে মুখ খুলেছেন মন্ত্রী সুজিত বসু। সরাসরি কেন্দ্রীয় এজেন্সির অভিযানকে ‘রাজনৈতিক টার্গেট’ বলে আক্রমণ করেছেন তিনি।
“দুর্নীতি প্রমাণ হয় না বললেই”: মন্ত্রীর পাল্টা চ্যালেঞ্জ
লেকটাউনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী সুজিত বসু স্পষ্ট জানান, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি বলেন,
“দুর্নীতি হয়েছে বললেই সেটা প্রমাণ হয়ে যায় না। আসল সার্টিফিকেট দেবেন সাধারণ মানুষ। আমার এলাকার মানুষ জানেন, আমি কীভাবে তাঁদের পাশে থেকেছি।”
মন্ত্রী আরও দাবি করেন, এর আগেও তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছিল, কিন্তু ED কোনও প্রমাণ খুঁজে পায়নি। মন্ত্রীর কথায়, “আমার বাড়িতে আগেও তল্লাশি চালানো হয়েছে। কিছুই পাওয়া যায়নি। এবারও কিছুই মেলেনি। রাজনৈতিকভাবে আমাদের টার্গেট করা হচ্ছে। ভোটের আগে প্রতিবারই এমন অভিযান চালানো হয়।”
ভোটের আগে ‘একই নাটক’?
মন্ত্রী এই অভিযানকে আসন্ন নির্বাচনের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, “এটা নতুন কিছু নয়। লোকসভা নির্বাচনের আগেও অর্থাৎ ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আমার বাড়িতে রেড করেছিল ইডি। তখনও কিছুই পায়নি। এখন আবার ভোটের আগে একই নাটক। মানুষের আদালতেই এই সব অভিযানের জবাব মিলবে।”
ইডি সূত্রে খবর, এদিন সকালে নাগেরবাজারের শোভনা অ্যাপার্টমেন্টেও পৌঁছেছিলেন আধিকারিকরা। প্রথমে সাড়া না মেলায় কিছুক্ষণের অপেক্ষা করতে হয় তাঁদের। পরে দরজা খুললে শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি।
তৃণমূলের অভিযোগ ও ED-র দাবি
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পুজো শেষ হতেই কেন্দ্রীয় সংস্থা ফের পুরানো মামলায় তৎপরতা শুরু করেছে। অন্যদিকে, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, নির্বাচনের আগে ED-CBI-কে ব্যবহার করে বিরোধীদের ভয় দেখানো হচ্ছে।
তবে, তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, এই অভিযান সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার অঙ্গ, এবং তারা দুর্নীতির অভিযোগে যুক্ত ব্যক্তিদের আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখছেন। কিন্তু মন্ত্রী সুজিত বসুর মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, তিনি এটিকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলেই মনে করছেন।