“আমরা সায় দিইনি!” নির্বাচন কমিশনের দাবি নস্যাৎ করে দিয়ে ফর্ম ৬ নিয়ে বড় মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (Bihar SIR) প্রক্রিয়ায় নতুন ভোটারদের নাম নথিভুক্তকরণের ব্যবহৃত ‘ফর্ম ৬’ (Form 6) পরিবর্তন নিয়ে বিতর্ক এবার চূড়ান্ত রূপ নিল। গত ২৬ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন এক বিবৃতিতে দাবি করেছিল, মে ২০২৬-এর বিহার এসআইআর মামলার রায়ের ওপর ভিত্তি করেই তারা ‘ফর্ম ৬’-এ পরিবর্তন এনেছে এবং তাতে আদালতের আইনি সায় রয়েছে। কিন্তু সোমবার শীর্ষ আদালত সরাসরি নির্বাচন কমিশনের সেই দাবি উড়িয়ে দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিল, সংশোধিত এই ফর্মে সুপ্রিম কোর্টের কোনো সিদ্ধান্ত বা অনুমোদন ছিল না।

আদালতে কী ঘটেছিল?

মামলার শুনানিকালে আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী নির্বাচন কমিশনের সেই বিতর্কিত বিবৃতির কথা তুলে ধরেন। এর জবাবে বেঞ্চের সদস্য বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী অত্যন্ত কড়া সুরেই স্পষ্ট করে জানান, সংশোধিত বা নতুন ‘ফর্ম ৬’ নিয়ে আদালতে কোনো পর্যালোচনা বা বিচারমূলক সিদ্ধান্ত (Adjudication) হয়নি।

বিচারপতি বাগচী বলেন:

“বিহার এসআইআর মামলার শুনানির সময় এই নতুন ফর্ম ৬ সংক্রান্ত কোনো আবেদনই আদালতের সামনে পেশ করা হয়নি। যা আমাদের বিচার্য বিষয়ের আওতায় আনা হয়নি, তাকে অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করার প্রশ্ন কোথা থেকে ওঠে?”

বিপাকে নির্বাচন কমিশন

এর আগে গত ৫ অক্টোবর একটি পৃথক রিট পিটিশনের শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মৌখিকভাবে সাফ জানিয়েছিলেন যে, এসআইআর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন ফর্ম ৬-এ যে সমস্ত শর্ত বা রদবদল যুক্ত করেছে, তাতে শীর্ষ আদালতের কোনো সম্মতি ছিল না। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট ফের নিজের এই কড়া অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করায় ব্যাকফুটে চলে গেল জাতীয় নির্বাচন কমিশন।

বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার মূল নিয়মাবলী না বদলে অসৎ উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত কঠিন শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে হাজার হাজার নতুন ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শীর্ষ আদালতের এই ধারাবাহিক স্পষ্টীকরণের পর সংশোধিত ‘ফর্ম ৬’-এর আইনি বৈধতা ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।