‘মোদীর নেতৃত্বে সব সম্ভব!’ আয়ুষ্মান যোজনা থেকে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক তুলে ধরে কেন এমন বললেন মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব?

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসেবায় সাফল্যমণ্ডিত ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক বিশেষ পদক্ষেপ নিল মধ্যপ্রদেশ সরকার। সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভার এক বিশেষ বৈঠক ডেকেছিলেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মোহন যাদব। ক্যাবিনেট বৈঠকের পর নিজের সরকারি বাসভবনে একটি জনবহুল সংবাদ সম্মেলন ডেকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর দীর্ঘ কর্মজীবনের অভূতপূর্ব সাফল্যগুলি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্ব ও বিশেষ অর্জন
সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব বলেন, নরেন্দ্র মোদীই দেশের পাশাপাশি বিশ্বরাজনীতিতে একমাত্র বিরল ব্যক্তিত্ব যিনি যখনই বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, তখনই মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন এবং যখনই সংসদীয় নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন, তখনই সরাসরি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাত্র ১২ বছর সময়সীমার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদী এমন কিছু যুগান্তকারী ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা আগে কল্পনার অতীত ছিল:
স্বাস্থ্যে ঐতিহাসিক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ: ‘আয়ুষ্মান ভারত’ যোজনার মাধ্যমে দেশের কোটি কোটি মানুষকে বার্ষিক ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা এনে দিয়েছেন তিনি।
জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্জিক্যাল স্ট্রাইক: জম্মু ও কাশ্মীর থেকে বিতর্কিত ৩৭০ ধারা বাতিল থেকে শুরু করে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে ঢুকে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক পরিচালনা—সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে মোদী সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বড় উদাহরণ। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগে যেকোনো সময় সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটে যেত, আর এখন সন্ত্রাসীদের তাদের ঘরে ঢুকেই সাজা দেওয়া হয়।”
সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার: মুসলিম নারীদের অধিকার সুরক্ষায় তিন তালাক প্রথার বিলোপ এবং দেশের স্বার্থে নোটবন্দির মতো সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তাঁর আমলেই।
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও পরিকাঠামো উন্নয়ন
ডঃ মোহন যাদব মনে করিয়ে দেন যে, ১৯৮৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দেশে একের পর এক ভঙ্গুর জোট সরকার গঠিত হতো। অনেকে দাবি করতেন যে বিজেপি একক শক্তিতে সরকার গড়তে পারবে না। কিন্তু নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্ব সামনে আসতেই পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠিত হয়।
এর পাশাপাশি স্মার্ট সিটি উদ্যোগের মাধ্যমে নগর পরিকাঠামো রূপান্তর, ‘প্রধানমন্ত্রী আবাসন যোজনা’-র মাধ্যমে দরিদ্রদের মাথার ওপর পাকা ছাদ প্রদান এবং বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের মাধ্যমে ভারতীয় রেলের আধুনিকীকরণের মতো উন্নয়নমূলক কাজগুলির কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু ও সুস্থ জীবন কামনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁর দেখানো পথেই দেশ আগামীতে আরও এগিয়ে যাবে।