রাহুল-খাড়গেকে সটান ‘না’! সাক্ষাৎ করার আর্জি খারিজ করে প্রধান বিচারপতির কড়া চিঠি, কাঁপল দিল্লির রাজনীতি

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি ও ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করার যে তোড়জোড় শুরু করেছিলেন বিরোধী নেতারা, তাতে বড় ধাক্কা লাগল। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গেকে কড়া বার্তা দিয়ে চিঠি লিখে সাক্ষাতের আর্জি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন দেশের প্রধান বিচারপতি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, আদালতে বিচারাধীন কোনো বিষয় নিয়ে বিরোধী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করা প্রতিষ্ঠিত আইনি বিচারিক শিষ্টাচার ও সাংবিধানিক নীতির পরিপন্থী।
চিঠিতে প্রধান বিচারপতির কড়া প্রতিক্রিয়া
গত ১০ অক্টোবর রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গে যৌথভাবে চিঠি লিখে ১২ অক্টোবর বিকেলে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ছাড়াও পড়ুয়াদের গ্রেফতারি, মেট্রো স্টেশন বন্ধ ও ট্রেন বাতিলের মতো একাধিক বিষয় নিয়ে একটি স্মারকলিপি তুলে দেওয়া।
জবাবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট করে জানান, সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন। এই অবস্থায় বৈঠক করা হলে তা ‘ক্ষমতার পৃথকীকরণের নীতি’ (Separation of Powers)-র সঙ্গে সংঘাত তৈরি করবে, যা ভারতীয় সংবিধানের মূল কাঠামোর অন্যতম ভিত্তি। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আদালতের পরামর্শ ও সাংবিধানিক পথ
প্রধান বিচারপতি লোকসভার বিরোধী দলনেতাকে মনে করিয়ে দেন যে, বিরোধী নেতারা যেসব প্রশাসনিক বা অভিযোগ সংক্রান্ত সমস্যা তুলে ধরেছেন, সেগুলির সমাধান প্রশাসনিক স্তরে করার কোনো ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের নেই।
তবে সাধারণ নাগরিক তথা নেতাদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় বিচারবিভাগ সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই প্রশাসনিক স্তরে স্মারকলিপি পেশ করার পরিবর্তে সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের (Article 32) অধীনে সঠিক পদ্ধতিতে সরাসরি বা অনলাইনে আইনি আবেদন জমা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। দেশের আইনের ওপর আস্থা রেখে বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণের কথাই বিরোধীদের স্মরণে করিয়ে দিল শীর্ষ আদালত।