আমডাঙার বিধায়ককে ‘চরম’ দিলেন শুভেন্দু, পুজো নিয়ে কেন শুরু হলো নতুন রাজনৈতিক তরজা?

দুর্গাপূজার আগে আমডাঙার তৃণমূল বিধায়ক রফিকুর রহমান-এর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। জানা গিয়েছে, বিধায়ক রফিকুর রহমান একটি জনসভায় মসজিদ লাগোয়া এলাকায় পূজার সময় নামাজ চলাকালীন মাইক বন্ধ রাখার ‘অনুরোধ’ বা ‘নির্দেশ’ দিয়েছেন। তাঁর এই মন্তব্যকে ‘তোষণ’ বলে আখ্যা দিয়ে কড়া ভাষায় পাল্টা দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
বিধায়ক রফিকুর রহমানের নির্দেশ কী ছিল?
সংবাদ সূত্র অনুযায়ী, আমডাঙার তৃণমূল বিধায়ক রফিকুর রহমান তাঁর এলাকায় দুর্গাপূজা কমিটির সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, যেসব মিশ্র এলাকায় মসজিদের কাছাকাছি পুজো হচ্ছে, সেখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় ১০ মিনিট করে মাইক বন্ধ রাখা উচিত। তিনি বলেন, “সমাজের সব মানুষ কিন্তু এক নয়। নমাজ চলাকালীন দুর্গাপূজার মাইক বন্ধ রাখার কথা আমি বলছি।” যদিও বিধায়ক একে ‘অনুরোধ’ হিসেবে দেখিয়েছেন, বিরোধীরা বলছেন এটি ‘নির্দেশ’।
শুভেন্দু অধিকারীর ‘চরম’ পাল্টা
তৃণমূল বিধায়কের এই মন্তব্যের পরই চরম প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সরাসরি রফিকুর রহমানের মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন এবং একে ‘তোষণ’ বলে আখ্যা দেন।
শুভেন্দু অধিকারী পাল্টা বলেন, “পঞ্জিকার নিয়ম মেনেই শঙ্খ বাজবে, কাঁসর ঘণ্টা বাজবে।” অর্থাৎ, হিন্দু ধর্মীয় রীতি মেনেই পুজো চলবে এবং সেখানে মাইক বন্ধ রাখার কোনো নির্দেশ মানা হবে না। বিরোধী দলনেতা রফিকুর রহমানের মন্তব্যকে ‘বিভ্রান্তিকর’ এবং ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ হানার চেষ্টা বলেও তোপ দেগেছেন।
কিছু সংবাদ চ্যানেলে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে তিনি রফিকুর রহমানকে বাংলাদেশের ডঃ মুহাম্মদ ইউনূসের মতো ‘ভয়ঙ্কর’ মন্তব্য করছেন বলেও মন্তব্য করেছেন।
পূজা বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব। এই উৎসবের দিনগুলিতে মাইক বা শব্দ ব্যবহারের মতো বিষয় নিয়ে একজন বিধায়কের বিতর্কিত মন্তব্য এবং বিরোধী দলনেতার কড়া পাল্টা জবাব, দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ সৃষ্টি করেছে।