“আপনার সব সাংসদ-বিধায়ক নিয়ে কংগ্রেসে আসুন!” মমতাকে সরাসরি দলে ফেরার আহ্বান অধীরের, তুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনা

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে আকস্মিক এক বোমা ফাটিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে যিনি মমতার কট্টর রাজনৈতিক সমালোচক হিসেবে পরিচিত, সেই তিনিই এবার খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সসম্মানে কংগ্রেসে ফিরে আসার আহ্বান জানালেন। শুধু তাই নয়, তাঁরই নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গে আগামী দিনে লড়াই করার প্রস্তাব দিয়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের হাওয়া তুলেছেন অধীর।
ঠিক কী বলেছেন অধীর চৌধুরী?
বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের একটি কর্মসূচি থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে সরাসরি বার্তা দেন অধীর বাবু। তিনি বলেন, “আপনার সব এমপি, এমএলএ-দের নিয়ে কংগ্রেসের ছাতার নিচে আসুন। নেতৃত্ব দিন, আমরা মেনে নেব। লোটাকম্বল সব নিয়ে আসুন। কংগ্রেসের মতো বটগাছের নিচে যখন আসতে চাইছেন, আসুন। তবে সমস্ত ব্যাগেজ বা অতীত জঞ্জাল বাদ দিয়ে আসতে হবে।” তৃণমূলের অন্দরে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক নানা গুঞ্জন ও পরিস্থিতির মাঝেই অধীরের এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।
কেন হঠাৎ এই প্রস্তাব?
১৯৯৮ সালে কংগ্রেসের হাত ধরেই দল ছেড়ে নিজস্ব দল তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু বর্তমান জাতীয় রাজনীতিতে ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোটের সমীকরণ এবং বাংলায় পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই প্রস্তাব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে সম্প্রতি তেলেঙ্গানার উপমুখ্যমন্ত্রী ভাট্টি বিক্রমার্কা মাল্লুও প্রাক্তন কংগ্রেস নেতাদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এর পরেই অধীর চৌধুরীর এই মন্তব্য সেই জল্পনাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
কংগ্রেস কর্মী ও নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া
অধীরের এই প্রস্তাব নিয়ে দলের অন্দরেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাজ্য কংগ্রেসের একাংশের মত, দেশের সংবিধান বাঁচাতে এবং বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইকে শক্তিশালী করতে জাতীয় কংগ্রেসের ছাতায় সবার একসঙ্গে আসা উচিত। তবে বহু তৃণমূল স্তরের কর্মীর মতে, অতীতে রাজ্যে কংগ্রেস কর্মীদের ওপর চলা রাজনৈতিক চাপের কথা মাথায় রেখে শর্তসাপেক্ষেই এই পদক্ষেপ হওয়া উচিত। অন্যদিকে, তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে কুণাল ঘোষ তীব্র আক্রমণ করে জানিয়েছেন, সোনিয়া গান্ধী বা রাহুল গান্ধী যখন সরাসরি কথা বলছেন, তখন অন্য কারও এমন অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য বা খোঁচা দেওয়ার পেছনে অন্য অভিসন্ধি থাকতে পারে।
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে তৃণমূলের কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের গুঞ্জন এবং দিল্লির ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের আবহে অধীর চৌধুরীর এই ঘোষণা বাংলায় নতুন কোনো রাজনৈতিক মহাযুদ্ধের সূচনা করে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়!