বাংলাদেশে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক তথা ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড়। বুধবার এই হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট পেশ করল বাংলাদেশ পুলিশ। চার্জশিটে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরেই হাদিকে খুন করা হয়েছে। অধুনা-নিষিদ্ধ আওয়ামী লিগ ও ছাত্র লিগের নির্দেশেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। চার্জশিটে মোট ১৭ জনের নাম রয়েছে, যার মধ্যে মূল অভিযুক্ত ফৈজাল করিম মাসুদ-সহ ১২ জনকে ইতিমত্যে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশের গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত কমিশনার মহম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, স্যোশাল মিডিয়া ও জনসভায় ছাত্র লিগের কড়া সমালোচনা করার কারণেই হাদিকে টার্গেট করা হয়েছিল। গত ১২ ডিসেম্বর প্রকাশ্য রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় কোটা বিরোধী আন্দোলনের এই জনপ্রিয় মুখের। তবে এই চার্জশিট পেশের দিনেই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন নিহত নেতার দাদা ওমর বিন হাদি। সরাসরি মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারকে বিঁধে তিনি বলেন, “রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকাকালীন এই হত্যার দায় আপনারা এড়াতে পারেন না। আজ হোক বা ১০ বছর পরে—আপনাদেরও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।” তাঁর দাবি, হাদি ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, আর সেই প্রক্রিয়া রুখতেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হলো। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাহবাগের ‘শহিদ শপথ’ কর্মসূচি থেকে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ওপার বাংলার রাজনীতি।