আদৌ কি ভারতীয় নাগরিক ধ্রুব রাঠি? আসল সত্যিটা জানালেন নিজেই

শনিবার মধ্যরাত ৩টে নাগাদ পুলিশি হেফাজত থেকে ছাড়া পাওয়ার পরেই বিস্ফোরক ভিডিও বার্তা নিয়ে হাজির হলেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি। সম্প্রতি ককরোচ বা ‘আরশোলা’দের ডাকা আন্দোলনে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাঁকে নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল শুরু হয়। বিজেপি নেতা ভাস্কর রাও দাবি করেছিলেন, ধ্রুব রাঠি নাকি একজন জার্মান নাগরিক এবং ভিনদেশী হয়ে তিনি ভারতের কোনো রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশ নিতে পারেন না।

এই সমস্ত জল্পনা ও গুঞ্জন উড়িয়ে রবিবার সকালেই একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করে নিজের ভারতীয় পাসপোর্ট সকলের সামনে তুলে ধরেন ধ্রুব রাঠি। অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেন, “আমি একজন ভারতীয় নাগরিক ছিলাম, আছি এবং থাকব। আমি বিদেশি নাগরিক বলে আন্দোলনে অংশ নিতে পারব না— এই সমস্ত গুজব সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। একজন ভারতীয় নাগরিক হিসেবে দেশের বাকী নাগরিকদের যা অধিকার রয়েছে, আমারও ঠিক তাই আছে।”

পাশাপাশি, তাঁকে আটক বা গ্রেফতার করা নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন এই ইউটিউবার। তাঁর দাবি, তাঁকে কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি, বরং তাঁকে কার্যত “অপহরণ” করা হয়েছিল। ধ্রুব রাঠির অভিযোগ, “গতকাল সকাল ৭টা নাগাদ আমি বেডরুমে শুয়েছিলাম। হঠাৎ সাদা পোশাকের প্রায় ২০ জন লোক আমার ঘরে ঢুকে পড়ে। জুতো পরার সুযোগ পর্যন্ত দেয়নি, ফোন কেড়ে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে হিঁচড়ে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ২২-২৩ ঘণ্টা আমাকে যেভাবে আটকে রাখা হয়েছিল, তা কোনো সাধারণ গ্রেফতারি নয়।”

দেশজুড়ে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে ধ্রুব রাঠি আরও বলেন, “দেশে যেন এক অঘোষিত এমারজেন্সি চলছে। গতকাল যা হয়েছে তা উত্তর কোরিয়াতেই দেখা যায়। হিটলার বা মুসোলিনির পরিণতি কী হয়েছিল, ইতিহাস থেকে তা একবার দেখে নেওয়া উচিত।”

বর্তমানে এই ঘটনার জেরে রাজনৈতিক এবং সোশ্যাল মিডিয়া মহলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।