‘আদৌ কি বিপদ বাড়ছে জ্ঞানেশ কুমারের!’ সুপ্রিম কোর্টের নড়েচড়ে বসা ও রাষ্ট্রপতির কাছে বিরোধী জোটে তোলপাড়!

সাম্প্রতিক এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং বেশ কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জেরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর অপসারণের দাবি তুলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে লাগাতার আন্দোলন ও বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে বিরোধী দলগুলি। এমনকি এই ইস্যুতে খুব শীঘ্রই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইন্ডিয়া ব্লকের প্রতিনিধিরা। এই তুমুল রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, সত্যিই কি জ্ঞানেশ কুমারের বিপদ বাড়ছে? আদৌ কি তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ায় অপসারণ করা সম্ভব? এই জটিল প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সংবিধানে কী বলা হয়েছে, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী জয়ন্ত মিত্র।

টিভি৯ বাংলাকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে সিনিয়র আইনজীবী জয়ন্ত মিত্র স্পষ্ট জানিয়েছেন, যেভাবে সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক দলগুলি বিক্ষোভ দেখাচ্ছে, তাতে জ্ঞানেশ কুমারের বিপদ নিশ্চিতভাবেই বাড়ছে। মানুষ যেভাবে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে, তাতে সুপ্রিম কোর্টও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নড়েচড়ে বসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, ইচ্ছে করলেই কেউ তাঁকে হুট করে সরাতে পারে না। জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণ করতে হলে একমাত্র সংবিধানের নির্দিষ্ট নিয়ম ও সাহায্য নিতে হবে।

এই প্রসঙ্গে সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদের (Article 324) কথা তুলে ধরেছেন জয়ন্ত মিত্র। তিনি জানান, সংবিধানের এই ধারা অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতিকে অপসারণ করার জন্য যে জটিল ও কঠোর পদ্ধতির প্রয়োজন হয়, ঠিক একই পদ্ধতি মেনে তবেই প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ করা সম্ভব। আর্টিকল ৩২৪-এর ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো কমিশনারের বিরুদ্ধে যদি গুরুতর ‘অক্ষমতা’ (incapacity) কিংবা ‘প্রমাণিত দুর্ব্যবহারের’ (proved misbehaviour) জোরালো অভিযোগ ওঠে, তবেই সংসদে অনাস্থা প্রস্তাব এনে তাঁকে অপসারণের পথে হাঁটা যেতে পারে।

আইনজীবী জয়ন্ত মিত্রের মতে, চলমান এই তীব্র বিক্ষোভ এবং রাজনৈতিক চাপের মুখে জ্ঞানেশ কুমার যদি নিজে থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করেন, তবে তাঁকে পদ থেকে সরাতে একমাত্র পথ হলো সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদের সহায়তা নেওয়া। অর্থাৎ সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অনাস্থা এনেই কেবল এই পদক্ষেপ সম্ভব। বিরোধীদের সাম্প্রতিক আন্দোলন এবং আইনি বিশেষজ্ঞদের এই ব্যাখ্যা কেন্দ্র সরকারের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক জটিলতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।