আদালতে অনুপস্থিত পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ভর্ৎসনা, জামিন বাতিল হতে পারে বলে সতর্কবার্তা!

জামিন পেয়েও বুধবার ব্যাঙ্কশাল কোর্টে হাজিরা দেননি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee)। এই অনুপস্থিতির জন্য আদালত তাঁকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছে। বিচারক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়া মানেই বাড়িতে বসে থাকা নয়; যদি তিনি শুনানিতে হাজির না হন, তবে নিম্ন আদালত তাঁর জামিন বাতিল করে দিতে পারে।
নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) মামলার শুনানি চলছিল ব্যাঙ্কশাল কোর্টে। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর পার্থ চট্টোপাধ্যায় সশরীরে আদালতে উপস্থিত হবেন বলেই আশা করা হয়েছিল। তবে শুনানি শুরু হওয়ার পর তিনি হাজির না হলে তাঁর আইনজীবী স্বাস্থ্যজনিত কারণ দেখান। এর পরই আদালত কঠোর মন্তব্য করে।
অর্পিতার আবেদন: ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফিরে পেতে চান
পার্থ চট্টোপাধ্যায় আদালতে উপস্থিত না থাকলেও, তাঁর বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায় (Arpita Mukherjee) এদিন ব্যাঙ্কশাল কোর্টে হাজির ছিলেন। তিনি তাঁর তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নাগাল ফিরে পেতে আদালতে আবেদন জানান।
অর্পিতার আইনজীবী আদালতে জানান, ইডি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে তাঁর তিনটি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে। তাঁর দাবি, তদন্তের জন্য ওই তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার কোনও প্রয়োজনই নেই, কারণ সেগুলির সঙ্গে নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত প্রক্রিয়ার কোনও যোগ নেই। অর্পিতা ওই অ্যাকাউন্টগুলি ব্যবহার করতে চান, তাই আদালতকে নির্দেশ দিতে আবেদন করেন।
অন্যদিকে, ইডি এই আবেদনে আপত্তি জানিয়েছে। আদালত ইডি-কে লিখিত আকারে তাদের আপত্তি জানানোর নির্দেশ দিয়েছে এবং এই বিষয়ে দুই সপ্তাহ পর শুনানি হবে।
২০০২ সালের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে নিয়োগের যোগ নেই: অর্পিতা
আদালত থেকে বেরোনোর সময় অর্পিতা মুখোপাধ্যায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। তিনি বলেন, “তিনটি অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়ার জন্য বলিনি। ২০০২ সাল থেকে একটি অ্যাকাউন্ট আছে। সেটি খুলে দেওয়ার জন্য বলেছি। ৮ তারিখে ডেট দিয়েছেন। তার পর জানব। ইডি যেভাবে মনে করেছেন, অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছেন। কিন্তু ২০০২ সালের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে নিয়োগের কোনও যোগ নেই। ইন ফ্যাক্ট তখন তো আমার কেরিয়ার সবে শুরু হয়েছে!”
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিন নিয়ে এদিন অর্পিতা কোনও মন্তব্য করেননি। যদিও জেলমুক্তির পর পার্থ এবিপি আনন্দকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অর্পিতার সঙ্গে সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন, অন্য নেতাদের স্ত্রী ও বান্ধবী দুই-ই থাকে; তাঁর স্ত্রী নেই যখন, বান্ধবী কেন থাকতে পারে না? তবে অর্পিতার বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ ও গয়নার দায় তিনি নেননি।