আজাদ মল্লিক থেকে বিনোদ গুপ্তা, আন্তর্জাতিক জাল পাসপোর্ট চক্রের নয়া দিক! ফরেন কারেন্সি এক্সচেঞ্জের কারবারে ইডি-র সন্দেহ

উত্তর ২৪ পরগনার খড়দায় এক পরিবহণ ব্যবসায়ীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেয়েছে। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, খড়দার নর্মদা আবাসনে বিনোদ গুপ্তা নামে ওই ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে এমন কিছু নথি উদ্ধার হয়েছে, যা থেকে স্পষ্ট — ওই ব্যবসায়ী নাকি গত ১০ বছরে প্রায় ৯০০ বার বিদেশ সফর করেছেন!

এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক জাল পাসপোর্ট চক্রের তদন্তে আরও এক নতুন দিক উঠে এল।

প্রতি সপ্তাহে দু’বার ব্যাংকক: ইডি-র প্রশ্ন
ইডি সূত্রে খবর, বিনোদ গুপ্তার ঘন ঘন বিদেশযাত্রা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তদন্তকারীরা। উদ্ধার হওয়া নথি বিশ্লেষণ করে জানা গিয়েছে, এর মধ্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাঁর গন্তব্য ছিল ব্যাংকক। ইডি আধিকারিকরা জানতে চাইছেন:

স্বল্প সময়ে এতবার বিদেশযাত্রা কীভাবে সম্ভব?

প্রতি সপ্তাহে প্রায় দু’বার করে তাঁর ব্যাংকক যাওয়ার উদ্দেশ্যই বা কী ছিল?

কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের দাবি, ওই ব্যবসায়ী বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই ফরেন কারেন্সি এক্সচেঞ্জের কারবার করতেন। এই অর্থ এবং নথি পাচারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোনো বড় নেটওয়ার্ক জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আজাদের সূত্র ধরে নতুন মোড়
কিছুদিন আগে বিরাটি থেকে আজাদ মল্লিক নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ, পরে ইডি তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। আজাদ বাংলাদেশ হয়ে ভুয়ো নথি বানিয়ে জাল পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরি করত বলে জানা যায়। ইডি-র সন্দেহ, আজাদই ছিল বড়সড় আন্তর্জাতিক জাল পাসপোর্ট চক্রের মূল পাণ্ডা।

আজাদের সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে দফায় দফায় অভিযান চালাচ্ছেন। নদিয়ার চাকদার সাইবার ক্যাফে থেকে জাল পাসপোর্ট তৈরি করার সন্দেহে ইতিমধ্যে ইন্দুভূষণ হালদার নামে আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই মামলায় নদিয়ার চুয়াডাঙাপাড়ির বাসিন্দা বিপ্লব সরকারও তদন্তকারীদের নজরে রয়েছেন।

ইডি ওই পরিবহণ ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলেও, তাঁর ঘন ঘন বিদেশ সফরের বিষয়টি আন্তর্জাতিক জাল পাসপোর্ট চক্রের তদন্তে এক নতুন মোড় আনল বলে মনে করা হচ্ছে।