‘আগের সরকার যা করেনি, আমরা করব!’ দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে এসে কোন বিরাট সারপ্রাইজ দিলেন শুভেন্দু অধিকারী?

বাঙালির দুর্গাপুজো আর বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের নাম একে অপরের পরিপূরক। মহালয়ার ভোরে তাঁর কালজয়ী কণ্ঠে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ শোনার মধ্য দিয়েই আপামর বাঙালির শারদোৎসবের শুভ সূচনা ঘটে। সেই কিংবদন্তি বাচিকশিল্পী ও সাংস্কৃতিক প্রবাদপ্রতিম পুরুষকে যথাযথ সম্মান জানাতে তাঁর নামে একটি রাস্তার নামকরণের ঐতিহাসিক ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার টালা প্রত্যয়ের দুর্গাপুজোর উদ্বোধনী মঞ্চে এসে এই ঘোষণা করেন তিনি, যা ইতিমধ্যেই সাংস্কৃতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এদিন উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রকে আরও অনেক আগেই এই সম্মান জানানো উচিত ছিল। পূর্ববর্তী সরকার কেন তাঁর অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি দেয়নি, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি স্পষ্ট জানান যে আগের সরকার কোনো উদ্যোগ না নিলেও বর্তমান সরকার সেই পথে হাঁটবে না। বরং কিংবদন্তি এই শিল্পীর অমর অবদানকে স্থায়ীভাবে স্বীকৃতি দিতে তাঁর নামেই একটি রাস্তার নামকরণ করা হবে। তবে ঠিক কোন রাস্তার নাম বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের নামে রাখা হবে, সে বিষয়ে এদিন বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলের একাংশের মতে, রাস্তার নাম পরিবর্তন বা নতুন নামকরণের ক্ষেত্রে অতীতে নানা রাজনৈতিক মতপার্থক্য দেখা গেলেও, বাঙালির আবেগ এবং দুর্গাপুজোর ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের স্মৃতি রক্ষার্থে এই উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পুজোয় রাজনীতি দূরে সরিয়ে রাখার বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “পুজোয় কোনো রাজনীতি নয়। পুজো এবার পরিবারের মতো করে এখানে হবে। পুজো মানেই এলাকার মানুষের একসঙ্গে কাজ করে মায়ের আরাধনা করা।” তিনি জানান, পুজোকে কেন্দ্র করে এবার সরকার এবং সংশ্লিষ্ট দফতর বহু যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার ফলে কাউকে আদালতের দারস্থ হতে হয়নি এবং গতবারের তুলনায় অনুমোদিত পুজোর সংখ্যা বারো হাজারের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।