“আগের সব ওয়েটিং লিস্ট বাতিল করলাম!” মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এক ঘোষণায় তুমুল চাঞ্চল্য

সোমবার রাজ্যবাসীর জন্য এক ঐতিহাসিক ও বড় আর্থিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল নতুন সরকার। প্রতিশ্রুতি মতো সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের অধীনে বার্ধক্য, বিধবা এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের মাসিক ভাতা এক লাফে অনেকটাই বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে হাজার টাকার পরিবর্তে সমস্ত যোগ্য উপভোক্তারা প্রতি মাসে সরাসরি দেড় হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। এদিন অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে একটি বিশেষ ভার্চुয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই বর্ধিত ভাতার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিনই রাজ্যের যোগ্য উপভোক্তাদের সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বর্ধিত এই ভাতার টাকা সফলভাবে পৌঁছে গিয়েছে।

এই মেগা সূচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিগত সরকারের আমলে তৈরি হওয়া সমস্ত অপেক্ষমান তালিকা বা ‘ওয়েটিং লিস্ট’ সম্পূর্ণভাবে বাতিল ঘোষণা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর সাফ নির্দেশ, বিগত সরকারের সমস্ত ওয়েটিং লিস্ট আজ থেকে বাতিল করা হলো। বর্তমান সরকারের আমলে যাঁরা ‘জনকল্যাণ শিবির’ এবং ‘আপনার সরকার আপনার পাশে’ কর্মসূচিতে আবেদন জানিয়েছেন, পুঙ্খানুপুঙ্খ ভেরিফিকেশনের পর তাঁদেরই একনিষ্ঠভাবে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ভুয়ো উপভোক্তা চিহ্নিত করতে গিয়ে প্রশাসন দেখেছে যে, বয়স লুকিয়ে কিংবা ভুল তথ্য দিয়ে অনেকে সুবিধা নিচ্ছেন। এমনকী, পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণায় এক পুরুষ হয়েও বিধবা বা স্বামীহীনা ভাতা তোলার অপরাধে একজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ধরনের দুর্নীতি ও জালিয়াতি রুখতে প্রশাসন যে সম্পূর্ণ জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে এগোচ্ছে, তা এদিনের বক্তব্যে স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিকে, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বরের শেষে রাজ্যের সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ওয়ার্ড স্তরে ফের দু’দিনের বিশেষ ‘জনকল্যাণ শিবির’ আয়োজন করা হবে। যেখান থেকে নতুন আবেদন গ্রহণ ও যাচাই করে একেবারে প্রকৃত ও যোগ্যদের ভাতার আওতায় আনা হবে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বা অন্যান্য কারণে যারা বঞ্চিত হয়ে ওয়েটিং লিস্টে নাম ঝুলিয়ে বসেছিলেন, তাঁদের নতুন করে আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো কোনোভাবেই যেন কোনো যোগ্য মানুষ বঞ্চিত না হন এবং প্রতিটি পাইপয়সা সঠিক প্রাপ্রকের হাতেই পৌঁছায়।

এদিনের অনুষ্ঠানে মহিলাদের জন্য আরও একটি বিশেষ আর্থিক সুরক্ষার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। যে সমস্ত বিধবার বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, তাঁদের দেড় হাজার টাকার সাধারণ ভাতা ছেড়ে মাসিক ৩ হাজার টাকার ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তাঁরা আর্থিকভাবে অনেক বেশি লাভবান হতে পারবেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, কেবল ভাতা বিতরণই সরকারের একমাত্র কাজ নয়; বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, বাণিজ্য এবং আধুনিক কৃষির মতো সার্বিক পরিকাঠামোর উন্নয়নই এই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। সুশাসন ও স্বচ্ছতার মেলবন্ধনে রাজ্যবাসীকে এক উন্নত পরিষেবা দিতে বদ্ধপরিকর বর্তমান প্রশাসন।