আকস্মিক উলটপুরাণ রেজিনগরে! প্রথমে বিজেপির তুফান, ইভিএম খুলতেই কি বদলে গেল ভোটের পুরো সমীকরণ?

রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দানে উত্তেজনা বাড়িয়ে রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের বা ভোট গণনার কেন্দ্র থেকে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ভোট গণনার প্রথম পর্বে যেখানে পোস্টাল ব্যালটের ফলাফলে এক অভাবনীয় পরিসংখ্যান দেখা গিয়েছিল, পরবর্তীতে ইভিএম (EVM) গণনা শুরু হতেই ভোটের পুরো সমীকরণ আমূল বদলে যায়। এই আকস্মিক পরিবর্তন এবং ফল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে।

গণনার শুরুতে পোস্টাল ব্যালট পেপারের গণনা নিয়ে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, পোস্টাল ব্যালটের মোট ভোটের প্রায় ৯৫ শতাংশই চলে গিয়েছিল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) খাতার ঝুলিতে। এই বিশাল ব্যবধানের জেরে প্রাথমিক পর্যায়ে বিজেপির প্রার্থী শাখারভ সরকার প্রায় ৫০০ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে যান। বিরোধী শিবির তো বটেই, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও এই প্রাথমিক প্রবণতা দেখে হতবাক হয়ে যান। পোস্টাল ব্যালট এবং সার্ভিস ভোটের এই ট্রেন্ড গেরুয়া শিবিরের অন্দরে সাময়িক আনন্দের জোয়ার বইয়ে দিলেও তা স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ।

তবে আসল নাটক শুরু হয় যখন ইভিএমের ভোট গণনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। ইভিএমের বাক্স খুলতেই চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যেতে শুরু করে। পোস্টাল ব্যালটের প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে কংগ্রেস প্রার্থী মহম্মদ আব্দুল্লাহিল কাফি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে শুধু সমতা ফেরাননি, বরং ইভিএমের ভোটে বিপুল মার্জিনে এগিয়ে যান। তৃণমূল, বিজেপি এবং কংগ্রেস—এই তিনমুখী লড়াইয়ে ইভিএমের গণনা শুরু হতেই কংগ্রেসের পক্ষে জনমত জোরালোভাবে আছড়ে পড়ে।

এই নাটকীয় পটপরিবর্তনের পরই ভোট গণনায় ব্যাপক কারচুপির গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন কংগ্রেস প্রার্থী মহম্মদ আব্দুল্লাহিল কাফি। তাঁর দাবি, প্রশাসনের একাংশের সহযোগিতায় এবং গণনার প্রক্রিয়ায় পরিকল্পিত ত্রুটি রেখে ভোটের ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে গণনাকেন্দ্রের বাইরেও চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে স্লোগান ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হয়।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পোস্টাল ব্যালট এবং ইভিএম ভোটের এই ফারাক ভারতীয় নির্বাচন ব্যবস্থায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সরকারি কর্মী ও বিশেষ ভোটারদের মনোভাবের প্রতিফলন সাধারণত পোস্টাল ব্যালটে দেখা যায়, যেখানে অনেক সময় মূল রাজনৈতিক ধারার বাইরে ভোট পড়তে দেখা যায়। তবে সাধারণ জনগণের ইভিএম রায়ে শেষ পর্যন্ত কার জয় হবে এবং নির্বাচন কমিশন এই কারচুপির অভিযোগের কী জবাব দেয়, এখন সেটাই দেখার।