হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই সব শেষ! নানা পাটেকরের মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য!

প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকরের প্রয়াণে ভারতীয় সিনেমা জগত এক অসাধারণ শিল্পী ও সমাজকর্মীকে হারিয়ে গভীর শোকাচ্ছন্ন। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর ধারা শুক্রবারও অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যেই প্রয়াত অভিনেতার ছেলে মলহার পাটেকর ব্যাখ্যা করেছেন কেন সূর্যাস্তের পর তাঁর বাবার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছিল। পাশাপাশি গোয়া পুলিশ এই মৃত্যুর ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর (ইউডি) মামলা রুজু করেছে।

বৃহস্পতিবার রাতে পুনে জেলার ডনজে গ্রামে অবস্থিত নিজস্ব খামারবাড়িতে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় নানা পাটেকরের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। এই অনুষ্ঠানে তাঁকে ‘থ্রি-গান স্যালুট’ জানানো হয়। শেষকৃত্যের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মলহার জানান, পরিবারটি সেই সময় গোয়ায় ছিল এবং বাবার মরদেহ খামারবাড়িতে ফিরিয়ে আনতে কিছুটা বিলম্ব ঘটে। তিনি বলেন, “আমরা তখন গোয়ায় ছিলাম। আমাদের আগেই পৌঁছানোর কথা থাকলেও কিছুটা দেরি হয়ে যায়। ভোরবেলা তাঁর মৃত্যু হওয়ায় অনেকটা সময় পেরিয়ে গিয়েছিল এবং দেহ বেশিক্ষণ ফেলে রাখা ঠিক ছিল না। তাই সূর্যাস্তের পরেই আমাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয়েছে।”

এদিকে, নানা পাটেকরের মৃত্যুর ঘটনায় পানাজি পুলিশ ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়ের করেছে। পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, ডোনা পাওলার ওশান পার্কে অবস্থিত বাসভবন থেকে নানাকে বাম্বোলিমের মণিপাল হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হয়, তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু ঘটে। ৭৬ বছর বয়সী এই অভিনেতা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শিকার হয়েছিলেন। চিকিৎসকরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে সিপিআর ও পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা চালালেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পিএসআই নীতিন নায়েকের তত্ত্বাবধানে এ বিষয়ে পরবর্তী তদন্ত চলছে।

বলিউড তারকারাও এই প্রবীণ শিল্পীর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ (কেবিসি) মঞ্চে আবেগঘন শ্রদ্ধা জানিয়ে অমিতাভ বচ্চন নানাকে একজন “অদ্বিতীয় শিল্পী”, বন্ধু ও নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক হিসেবে স্মরণ করেন। বিগ বি জানান, মহারাষ্ট্রের খরা-কবলিত গ্রামে কৃষকদের সমর্থন দেওয়াসহ নানার নির্ভীকতা ও সমাজসেবামূলক কাজের অঙ্গীকার তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। একইভাবে, ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে এক আবেগঘন বার্তায় সুপারস্টার সলমন খান লেখেন, “নানা… শান্তিতে ঘুমান ভাউ।” ১৯৯৬ সালে ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’ ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন তাঁরা।

সিনেমা জগতে অভাবনীয় সাফল্যের পাশাপাশি নানা পাটেকর সর্বদা কৃষক ও অভাবী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মলহার পাটেকর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তাঁর বাবার অসমাপ্ত জনহিতকর কাজগুলো তাঁরা থামতে দেবেন না। তিনি বলেন, “নানা সাহেবের মতো মানুষেরা কখনোই পুরোপুরি চলে যান না; তাঁদের কর্মই তাঁদের অমর করে রাখে। তিনি যে আদর্শ ও লক্ষ্য রেখে গিয়েছেন, তা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমেই আমরা আমাদের আগামী পথ তৈরি করব।”