“আইন হাতে নেবেন না”: তৃণমূলের দুর্নীতি ইস্যুতে বিস্ফোরক শুভেন্দু, নবান্ন থেকে দিলেন কড়া নির্দেশ!

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে জনরোষ চরমে। দীর্ঘদিনের ‘দুর্নীতি ও অত্যাচারের’ বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছেন সাধারণ মানুষ। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীদের দলীয় কার্যালয় ঘিরে চলছে বিক্ষোভ। প্রকাশ্যে আসছে তৃণমূল নেতাদের সরকারি সামগ্রী আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। এমনকি গত শনিবার সোনারপুরে প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপি কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সোমবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনো অবস্থাতেই আইন হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। সরকারের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসন ও পুলিশ ইতিমধ্যেই অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেছে।
‘সরকারি সামগ্রী উদ্ধার হচ্ছে, পুলিশকে কাজ করতে দিন’
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিধায়ক, সাংসদ, কাউন্সিলর এবং পুরপ্রধানদের অফিস থেকে উদ্ধার হচ্ছে সরকারি সম্পদ। এই উদ্ধারকাজ আইনানুগভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন ও পুলিশকে সময় দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিডিও এবং ম্যাজিস্ট্রেটরা সরেজমিনে তদন্তে যাচ্ছেন, ভিডিওগ্রাফি করা হচ্ছে। আপনারা আইন হাতে তুলে নেবেন না। আপনারা অভিযোগ জানান, সরকার যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেবে।” তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, বিভিন্ন এলাকায় এই বিক্ষোভের পেছনে সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের চেয়ে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভই বড় কারণ।
ফলতা উপনির্বাচন নিয়ে কটাক্ষ
তৃণমূলকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কার্যত উঠে যাওয়া একটি পার্টি, যারা ফলতা উপনির্বাচনে চতুর্থ হয়েছে, তাদের লোকেদের বিরুদ্ধে মানুষ ক্ষোভে ফুঁসছে। এসব বিক্ষোভের সবকটিতে সরাসরি রাজনৈতিক দল যুক্ত নয়, এটি মূলত জনরোষের প্রতিফলন।”
‘সস্তার প্রচার’ থেকে সতর্কবার্তা
বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের সতর্ক করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করা যাবে না যাতে বিরোধীরা কোনো “সস্তার প্রচার” পাওয়ার সুযোগ পায়। তিনি বলেন, “বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা যেন বিরোধীদের প্রচারের হাতিয়ার না হয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে।” পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, রাজ্যে এখন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার নিয়ম মেনেই প্রতিটি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
‘মানুষ ব্যবস্থার পরিবর্তন চেয়েছিল’
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, মানুষ শুধু সরকার বা দলের পরিবর্তন চায়নি, চেয়েছিল গোটা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন। তাঁর কথায়, “শুধু মুখের বদল, নামের বদল বা দলের বদল নয়, ব্যবস্থার বদল চেয়েছেন বাংলার মানুষ। সরকার গঠনের এক মাসও হয়নি, কিন্তু এর মধ্যেই প্রশাসন, পুলিশ এবং সংবাদমাধ্যমের সক্রিয়তায় সেই পরিবর্তনের ছোঁয়া সাধারণ মানুষ দেখতে পাচ্ছেন।”
ক্ষমতায় আসার প্রথম দিন থেকেই তোলাবাজি ও কাটমানি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বিজেপির সরকার। মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন—রাজ্যে দুর্নীতি বা অরাজকতা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।