‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতেই এই পদক্ষপ’ বিক্ষোভের বিধিনিষেধ নিয়ে শীর্ষ আদালতে কী জানাল পুলিশ?

দিল্লিতে গত ১০ অক্টোবরের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে জারি করা বিধিনিষেধের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তবে এই সংক্রান্ত আদালত অবমাননার মামলায় দাখিল করা হলফনামায় সুপ্রিম কোর্টের কাছে ‘নিঃশর্ত ও দ্ব্যর্থহীন ক্ষমা’ চেয়েছেন দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমার। পুলিশের সাফাই, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বড় ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতেই ওই কঠোর পদক্ষেপ করা হয়েছিল।

শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠীর দায়ের করা আদালত অবমাননার আবেদনে অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, ১০ অক্টোবরের বিক্ষোভের আগে জারি করা বিধিনিষেধের জেরে জিটিবি নগর ও বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রো স্টেশনের গেট বন্ধ রাখা হয়েছিল। এর ফলে ৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া নির্দেশ লঙ্ঘন করা হয়েছে। তবে পুলিশের পাল্টা দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সময়মতো, আইন মেনে এবং প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই পদক্ষেপ করা হয়েছে। এর ফলে রাজধানীতে বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলাজনিত সংকট এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

হলফনামায় জানানো হয়েছে, প্রথমে দিল্লির ৫৭টি মেট্রো স্টেশনে বিধিনিষেধ জারির প্রস্তাব থাকলেও শেষ পর্যন্ত দিল্লির মোট ৩০৩টি স্টেশনের মধ্যে মাত্র ৪৫টিতে তা কার্যকর করা হয়। অর্থাৎ, মেট্রো নেটওয়ার্কের মাত্র প্রায় ১৫ শতাংশ স্টেশনে এই কড়াকড়ি করা হয়েছিল। পাশাপাশি, ওই দিন রাত ১০টার মধ্যে মেট্রো পরিষেবা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক করে দেওয়া হয়। ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার অভিযোগ প্রসঙ্গে পুলিশের দাবি, সাধারণ ব্রডব্যান্ড বা ল্যান্ডলাইন নয়, কেবল মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। কেন্দ্রের নির্দেশেই রাইসিনা হিলের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে এই বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছিল বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের বেআইনিভাবে আটক রাখার অভিযোগও দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে দিল্লি পুলিশ। তাদের দাবি, দিল্লি পুলিশ আইনের ৬৫ নম্বর ধারা এবং ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৭২ নম্বর ধারার অধীনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তাঁদের কোনো পুলিশ লক-আপ বা জেলে রাখা হয়নি। বরং অস্থায়ী কেন্দ্রে মাত্র দুই থেকে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত রাখা হয়েছিল। হলফনামায় আরও দাবি করা হয়েছে, আটক রাজনৈতিক নেতাদের থানার স্টেশন হাউস অফিসারের (SHO) কক্ষে সম্মানজনকভাবে বসানো হয়েছিল এবং তাঁদের চা-জল ও খাবারও সরবরাহ করা হয়। এছাড়া কোনো পেশাজীবীকে তাঁর পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে বাধা দেওয়া হয়নি বলেও জানিয়েছে পুলিশ। বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের এই ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, শীর্ষ আদালতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছে দিল্লি পুলিশ।