‘অশ্লীল মেসেজ, শারীরিক সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা’, আশ্রমের প্রধানের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ, পালিয়ে গেলেন স্বামী চৈতন্যানন্দ!

দিল্লির বসন্ত কুঞ্জের একটি বিখ্যাত আশ্রমের প্রধান স্বামী চৈতন্যানন্দ সরস্বতী (প্রাক্তন স্বামী পার্থসারথী)-এর বিরুদ্ধে গুরুতর যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। আশ্রমের ১৫ জনেরও বেশি মহিলা শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনেছেন। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তিনি পলাতক। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে শেষবার আগ্রায় দেখা গেছে।
কী ঘটেছিল?
স্বামী চৈতন্যানন্দ শ্রী সারদা ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ান ম্যানেজমেন্টের পরিচালক ছিলেন। অভিযোগকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন ম্যানেজমেন্ট (PGDM) কোর্সের এবং অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির (EWS) স্কলারশিপের ছাত্রী। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, চৈতন্যানন্দ তাদের ব্যক্তিগতভাবে ডেকে অশ্লীল কথা বলা, কুমন্তব্য করা, অশ্লীল মেসেজ পাঠানো এবং জোর করে শারীরিক সম্পর্কের চেষ্টা করতেন।
পুলিশের কাছে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে যে, আশ্রমের তিন মহিলা কর্মী এই নোংরা কাজে প্রধানকে সাহায্য করতেন এবং শিক্ষার্থীদের এসব মেনে নিতে বাধ্য করতেন। পুলিশ ওই তিন মহিলাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
তদন্ত এবং প্রতিক্রিয়া
অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়েছে এবং অভিযুক্তের ঠিকানায় অভিযান চালানো হয়েছে। পুলিশ তার ব্যবহৃত একটি ভলভো গাড়ি উদ্ধার করেছে, যেখানে একটি জাল এম্ব্যাসি নম্বর প্লেট (39 UN 1) লাগানো ছিল।
এই ঘটনার পর আশ্রম কর্তৃপক্ষ তাকে পরিচালক পদ থেকে বরখাস্ত করেছে এবং তার সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। দক্ষিণ ভারতের বিশিষ্ট শ্রী শ্রীঙ্গেরী মঠও অভিযুক্তের কর্মকাণ্ডকে অনৈতিক, অবৈধ এবং মঠের স্বার্থের পরিপন্থী বলে নিন্দা জানিয়েছে।
পুলিশ এখনও পলাতক অভিযুক্তকে খুঁজছে। জানা গেছে, এটিই প্রথমবার নয়, ২০০৯ সালেও তার বিরুদ্ধে এক মহিলা একই ধরনের অভিযোগ এনেছিলেন। তা সত্ত্বেও তাকে এমন পদে বসানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে আশ্রম কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।