‘অমিত শাহ বললেই হলো না, আমরা না চাইলে কিচ্ছু হবে না!’ বিজপির জোটে থেকেই মোক্ষম তোপ এনডিএ শরিকের

আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই কি দেশজুড়ে কার্যকর হতে চলেছে বহুল চর্চিত অভিন্ন দেওয়ানী বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC)? সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দেওয়া এমন এক মেগা ঘোষণার ওপর কার্যত ঠান্ডা জল ঢেলে দিল বিহারের এনডিএ জোটের অন্যতম শরিক দল জনতা দল ইউনাইটেড (JDU)।

সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই দাবিকে সরাসরি উড়িয়ে দিয়ে জেডিইউ-এর প্রবীণ নেতা তথা বিধায়ক শ্যাম রজক সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিহারে কোনোভাবেই অভিন্ন দেওয়ানী বিধি চালু করা হবে না।

অমিত শাহের মেগা ঘোষণা ও জেডিইউ-এর উল্টো সুর

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এক অনুষ্ঠানে ঘোষণা করেছিলেন যে, ২০২৯-এর লোকসভা ভোটের আগেই বিজেপি এবং এনডিএ শাসিত দেশের ২১টি রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানী বিধি চালু করে দেওয়া হবে। শাহের এই মন্তব্যের পর থেকেই জাতীয় রাজনীতিতে জোর জল্পনা শুরু হয়।

তবে সেই ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার শ্যাম রজক বিহারে বিজেপির জোট সরকারকেই এক হাত নেন। তিনি স্পষ্ট জানান, “আমরা বিহারের রাজ্য সরকারের অন্যতম প্রধান শরিক দল। আমরা না চাইলে বিজেপি এককভাবে এই সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই কার্যকর করতে পারবে না।”

জেডিইউ-এর পুরনো অবস্থান ও রাজনৈতিক সমীকরণ

রাজনৈতিক জীবনকালে একসময় লালুপ্রসাদ যাদবের অত্যন্ত বিশ্বস্ত সহযোগী শ্যাম রজক নীতীশ কুমারের মন্ত্রিসভাগেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামলেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তথা নীতীশ কুমারের গোপন সম্মতি ও পরামর্শ ছাড়া এই ধরনের বড় ইস্যুতে শ্যাম রজকের মুখ খোলা মোটেও সম্ভব নয়।

শ্যাম রজক স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ইতিপূর্বে সংসদে যখন এই সংক্রান্ত আইন নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, তখনও জেডিইউ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছিল যে বিহারে এই আইন প্রযোজ্য হবে না। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “আমরা আমাদের সেই পুরনো অবস্থানেই অনড় থাকব।”

বিহারের বর্তমান সম্রাট চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার এবং রাজ্য বিজেপির নেতারা যখন অমিত শাহের নির্দেশ রূপায়ণে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময়ে শরিক দলের এই চরম উল্টো সুর নিশ্চিতভাবেই বিজেপিকে এক বড় অস্বস্তির মুখে ঠেলে দিল।