হিন্দি দিবসে অমিত শাহের মুখে নেতাজি-গান্ধীর নাম! কোন ঐতিহাসিক সত্যি মনে করালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী?

“হিন্দি ভারতের কোনো আঞ্চলিক ভাষার প্রতিযোগী নয়, বরং এটি দেশের বৈচিত্র্যময় ভাষাগোষ্ঠীর মধ্যে সংযোগকারী এক পরম সেতু।” হিন্দি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দেশের ভাষাগত ঐক্যের বার্তা দিতে গিয়ে এ কথা স্পষ্ট করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
প্রতি বছর ১৪ সেপ্টেম্বর সারা দেশজুড়ে হিন্দি দিবস হিসেবে পালিত হয়। ১৯৪৯ সালের এই ঐতিহাসিক দিনেই ভারতের সংবিধান সভা দেবনাগরী হরফে লিখিত হিন্দি ভাষাকে দেশের অন্যতম সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। সেই ইতিহাসের কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতের এই বহুভাষিক বৈচিত্র মোটেই দুর্বলতা নয়, বরং এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। স্বাধীনতার পর থেকে ভারতীয় ভাষাগুলিই দেশের উন্নয়ন, সুশাসন ও রাষ্ট্রগঠনের বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
নেতাজি ও গান্ধীর ভূমিকা স্মরণ
হিন্দি ভাষার ঐতিহাসিক বিকাশে অ-হিন্দিভাষী দূরদর্শী জননেতাদের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন অমিত শাহ। তিনি বলেন:
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু: নিজে বাংলাভাষী হওয়া সত্ত্বেও আজাদ হিন্দ ফৌজের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে তিনি হিন্দিকেই বেছে নিয়েছিলেন এবং সমগ্র দেশকে ‘জয় হিন্দ’ স্লোগানে একসূত্রে বেঁধেছিলেন।
স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী: গুজরাটি মাতৃভাষা হওয়া সত্ত্বেও নিজের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘সত্যার্থ প্রকাশ’ তিনি হিন্দিতে রচনা করেন।
মহাত্মা গান্ধী: ১৯১৮ সালে দক্ষিণ ভারতে হিন্দি ভাষার প্রচারে মাদ্রাজেই ‘দক্ষিণ ভারত হিন্দি প্রচার সভা’ স্থাপন করেছিলেন স্বয়ং গান্ধীজি।
পরাধীনতার মানসিকতা থেকে মুক্তির ডাক
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লাল কেল্লার ভাষণের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ভাবধারা ও পরাধীন মানসিকতা থেকে মুক্তির যে ডাক দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়িত করতে নিজস্ব ভাষার ভূমিকা অপরিসীম।
প্রশাসনিক ও আইনি সংস্কারের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, দিল্লির ‘রাজপথ’-এর নাম বদলে ‘কর্তব্য পথ’ রাখা কিংবা ব্রিটিশ আমলের পুরনো আইনি দণ্ডবিধি বদলে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’, ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা’ এবং ‘ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম’ চালু করা কেবল কিছু শব্দের রদবদল নয়— এগুলি ভারতের আত্মমর্যাদা ও জাতীয় গর্ব পুনরুদ্ধারের এক নতুন সূচনা।