অভিজিৎ সরকার হত্যার মামলা! হাইকোর্টের দ্বারস্থ পরেশ পাল সহ দুই কাউন্সিলর

বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার হত্যা মামলায় এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক পরেশ পাল। তাঁর সঙ্গে আগাম জামিনের আবেদন নিয়ে হাইকোর্টে এসেছেন দুই তৃণমূল কাউন্সিলর স্বপন সমাদ্দার এবং পাপিয়া ঘোষ। এই তিনজনকেই বিজেপি কর্মী খুনের মামলার সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসেবে নামানো হয়েছে।

২০২১ সালের ২ মে’র সেই রক্তাক্ত দিন
ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালের ২ মে, যেদিন বিধানসভা ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছিল। কাঁকুড়গাছির বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার সেই দিনই নৃশংসভাবে খুন হন। এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং মামলাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।

অভিজিৎ সরকারের পরিবার প্রথম থেকেই এই খুনের ঘটনায় স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের জড়িত থাকার অভিযোগ করে আসছিল। মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া দীর্ঘ দিন ধরে চলেছে এবং সম্প্রতি জমা পড়া সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে পরেশ পাল এবং দুই কাউন্সিলর স্বপন সমাদ্দার ও পাপিয়া ঘোষের নাম উঠে আসায় নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

আগাম জামিনের আবেদন: কেন হাইকোর্টে তৃণমূল নেতৃত্ব?
জানা গেছে, সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে নাম আসার পরই গ্রেপ্তার এড়াতে এই তিন তৃণমূল নেতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁদের আইনজীবীরা আদালতে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছেন, যেখানে তাঁরা যুক্তি দেবেন যে, তাঁদের মক্কেলদের এই মামলায় অন্যায়ভাবে জড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে, অভিজিৎ সরকারের পরিবার এবং বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনায় দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছে। হাইকোর্টের এই মামলার শুনানি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

এই মামলার পরবর্তী শুনানি কবে হবে এবং হাইকোর্ট আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করবে কিনা, তার ওপরই নির্ভর করছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলের নজর।