‘অফিসিয়াল আমন্ত্রণ নেই’ মোদির সভায় আমন্ত্রণ নিয়ে যা বললেন প্রাক্তন সভাপতি?

দুর্গাপুর সভায় মোদির পাশে কি দিলীপ? ‘অফিসিয়াল আমন্ত্রণ নেই’ বলে জল্পনা উস্কে দিলেন প্রাক্তন সভাপতি!
দুর্গাপুর, ১৫ জুলাই, ২০২৫: রাজ্য বিজেপির সভাপতি হিসেবে শমীক ভট্টাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দলের অন্দরে দিলীপ ঘোষের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। সেই জল্পনার আগুনে ঘি ঢেলেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগামী ১৮ জুলাইয়ের দুর্গাপুর সফর। মোদির এই জনসভায় দিলীপ ঘোষ আমন্ত্রণ পেয়েছেন বলে খবর মিললেও, তাঁর উপস্থিতি ঘিরে তৈরি হয়েছে এক রহস্য। তিনি কি সত্যিই যাবেন, নাকি আবারও দলের মূল স্রোত থেকে তাঁর দূরত্ব স্পষ্ট হবে? এই প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে।

“কর্মী হিসেবে যাব, অফিসিয়াল আমন্ত্রণ নেই” – দিলীপের দ্বিচারিতা?
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ প্রথমে জানান, রাজ্য বিজেপির নেতৃত্ব তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, “আমাকে দলের পক্ষ থেকে কেউ কিছু বলেনি। অফিসিয়ালি কোনও আমন্ত্রণ নেই।” কিন্তু এই অবস্থান থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে তিনি বলেন, “আমি কর্মী। কর্মীদের সঙ্গে থাকব। সভায় যাব, কর্মীদের মাঝেই থাকব।” দিলীপের এই দুই বিপরীতমুখী মন্তব্য তাঁর উপস্থিতি নিয়ে জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই মন্তব্য কি রাজ্য নেতৃত্বের প্রতি তাঁর অসন্তোষের ইঙ্গিত, নাকি শুধুমাত্র তাঁর স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার কৌশল?

দীর্ঘদিন ধরেই দূরত্ব, তবে শমীক ভট্টাচার্যের আগমনে বদল?
দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপি-র অন্দরমহলে দিলীপ ঘোষের অনুপস্থিতি নিয়ে নানা জল্পনা ছিল। বিশেষ করে দলের একের পর এক বড় সভা বা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাঁকে দেখা না যাওয়ায় মনে করা হচ্ছিল, তিনি দলের মূল স্রোত থেকে অনেকটাই সরে এসেছেন। এমনকি, সম্প্রতি তাঁর তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদানের জল্পনাও ছড়িয়ে পড়েছিল, যদিও তা পরবর্তীতে খারিজ হয়ে যায়।

তবে শমীক ভট্টাচার্য বিজেপির রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করে। শমীক নিজেই কয়েকদিন আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, দুর্গাপুরে মোদির সভায় দিলীপ ঘোষ উপস্থিত থাকবেন। এরপরই খবর আসে যে, দিলীপের কাছে সভার আমন্ত্রণপত্র পৌঁছেছে এবং তিনি ১৭ জুলাই রাতেই দুর্গাপুরে পৌঁছবেন।

সৌজন্যের টানাপোড়েন ও দলের অন্দরমহলের সমীকরণ
তবে মঙ্গলবার সকালে দিলীপ ঘোষ যেভাবে ‘আমন্ত্রণ না পাওয়ার’ ইঙ্গিত দিয়েছেন, তা থেকে অনেকেই মনে করছেন রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব এখনও পুরোপুরি মেটেনি। অথচ, কিছুদিন আগেই দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনে রাজ্য সরকারের সৌজন্য আমন্ত্রণে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন তিনি। এই সৌজন্য রক্ষার কারণে রাজ্য বিজেপির একাংশের রোষেরও শিকার হয়েছিলেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিলীপ ঘোষ এখনও রাজ্য বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ মুখ। তাঁর জনভিত্তি এবং সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা দলের জন্য অপরিহার্য সম্পদ। শমীক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে নতুন করে সংগঠন সাজাতে গেলে দিলীপ ঘোষের সঙ্গে সমন্বয় অত্যাবশ্যক। তাই আগামী ১৮ জুলাইয়ের মোদির সভায় দিলীপের উপস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। তবে তিনি ‘কর্মী’ হিসেবে সভায় থাকবেন, নাকি বিজেপি নেতৃস্থানীয় কেউ তাঁর সঙ্গে বিশেষভাবে যোগাযোগ করবেন – সেটাই এখন দেখার বিষয়।

মোদির সভা ঘিরে একদিকে যেমন রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ বাড়ছে, তেমনই দিলীপ ঘোষের বক্তব্য ফের আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। শাসক বনাম বিরোধী লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজ্য বিজেপির অভ্যন্তরীণ সমীকরণও যে নতুন মোড় নিতে চলেছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে দিন দিন।