‘অপারেশন সিঁদুর’-এ পাকিস্তানকে ডুবিয়েছে, সেই যুদ্ধবিমানই কিনতে চলেছে বাংলাদেশ

দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে এবার বড় পদক্ষেপ করল বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর নিজের প্রথম বিদেশ সফরে চিনকে বেছে নিয়েছিলেন তারেক রহমান। আর সেই সফরের ধারাবাহিকতাতেই এবার বেজিংয়ের সঙ্গে সামরিক চুক্তি চূড়ান্ত করার একেবারে শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেল ঢাকা। চিনের থেকে একঝাঁক অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ও চপার কেনার প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চিনের থেকে ২৪টি J-10CE মাল্টিসোল যুদ্ধবিমান কেনার খসড়া চুক্তি ইতিমধ্যেই তৈরি করে ফেলেছে সরকারি প্যানেল। বেজিংয়ের সঙ্গে এটিই ঢাকার সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে অস্ত্র আমদানির ক্ষেত্রে চিনকেই তাদের তালিকার এক নম্বরে রাখে।

চুক্তির নেপথ্যে কোন কোন অস্ত্র?

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান মঙ্গলবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, চুক্তি সম্পন্ন করার প্রক্রিয়ায় ঢাকা এখন অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। বায়ুসেনার শক্তি বৃদ্ধি করতে J-10CE যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি একাধিক অত্যাধুনিক হেলিকপ্টারও কেনার পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ। প্রতিটি J-10CE যুদ্ধবিমানের আনুমানিক মূল্য প্রায় চার কোটি মার্কিন ডলার। এই চুক্তিকে সফল করতে বিগত কয়েক মাস ধরেই দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক ও সামরিক স্তরে আলোচনা চলেছে। খসড়া চুক্তি চূড়ান্ত করতে ঢাকার আধিকারিকরা চিনের শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে আলাদা বৈঠকও সেরেছেন।

পাক-যোগ এবং আন্তর্জাতিক সমীকরণ

কৌশলগত দিক থেকে এই J-10CE যুদ্ধবিমানগুলি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অতীতে এই একই মডেলের যুদ্ধবিমান ব্যবহার করেছিল পাকিস্তান। সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, চিন এবং বাংলাদেশের এই প্রতিরক্ষা চুক্তি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। অতীতে বেজিংয়ের থেকে অস্ত্র সহায়তার পাশাপাশি এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের মতো প্রযুক্তিগত সহযোগিতা পেয়েছে ইসলামাবাদ। বর্তমানে বাংলাদেশও সেই পথেই হেঁটে নিজেদের সামরিক বহরকে আধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত করার কাজ চালাচ্ছে। সব মিলিয়ে, এই মেগা ডিফেন্স ডিল চূড়ান্ত হওয়ার পথে এগোতেই আন্তর্জাতিক মহলে চর্চা শুরু হয়ে গেছে।